নিজস্ব প্রতিবেদক
যশোর জেলা প্রশাসক গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টে গ্রুপ পর্বের প্রথম ম্যাচে দারুণ খেলা উপহার দিয়ে দর্শকদের মন কেড়ে নিয়েছিল সদর উপজেলার খেলোয়াড়রা। হ্যাটট্রিক করেছিলেন বিদেশি খেলোয়াড় আর্নেস্ট বোয়াটেং। গোল না পেলেও দারুণ খেলেছিলেন অধিনায়ক মান্নাফ রাব্বি। তাই রোববার সেমিফাইনালে জয়ের সাথে দুর্দান্ত খেলা উপহারের প্রত্যাশা করেছিল দর্শকরা। কিন্তু শামস্-উল-হুদা স্টেডিয়ামে জয় পেলেও যশোর জেলা ক্রীড়া সংস্থার অফিস লাগোয়া দুই পাশের গ্যালারি পরিপূর্ণ দর্শকদের ভালো খেলা দেখার সেই চাহিদা ছিটেফোটাও পূরণ করতে পারেনি বোয়াটেং-রাব্বি-জাহিদরা। মাঝমাঠে জাহিদ তার পুরনো ঝলক দেখিয়েছেন কয়েকবার।
মাঝমাঠের আরএক খেলোয়াড় সিদ্দিকও চেষ্টা করেছেন আক্রমণে যাওয়ার। গোলপোস্টের নিচে দারুণ কিছু সেভ দিয়েছেন মিতুল। তাতে গোলবঞ্চিত হয়েছে মনিরামপুর উপজেলা। তাই ম্যাচের তিন মিনিটে হাসানের দেয়া একমাত্র গোল ধরে রেখে মনিরামপুর উপজেলাকে হারিয়ে টুর্নামেন্টের প্রথম দল হিসেবে ফাইনাল নিশ্চিত করেছে যশোর সদর উপজেলা। ম্যাচ হারলেও সেরা খেলোয়াড় হয়েছেন মনিরামপুরের অধিনায়ক কংকর।
গ্রুপ পর্বের ম্যাচের শুরুর একাদশ থেকে চার পরিবর্তন নিয়ে খেলতে নামে যশোর সদর। জেলা দলের হয়ে জাতীয় ফুটবল চ্যাম্পিয়নশিপে খেলা জুলু ও জসিম ছিলেন ডিফেন্সে ও মাঝ মাঠে আব্দুর রহমান বাবুর পরিবর্তে ওসমান ও স্বাধীনের না থাকায় সেরা একাদশে সুযোগ পায় হাসান।
ম্যাচের প্রথম মিনিটে গোলের সুযোগ পায় মনিরামপুর। তবে তা থেকে গোল আদায় করতে পারেনি তারা। পরের মিনিটে কাউন্টার অ্যাটাক থেকে গোলের সুযোগ তৈরি সুযোগ করে হাসান। প্রায় মাঝ মাঠ থেকে একক প্রচেষ্টায় বল নিয়ে যায় হাসান। ডি-বক্সের বাইরে থেকে হাসানের দূর পাল্লার শট মনিরামপুরের গোলরক্ষক রায়হান কর্নারের মাধ্যমে রক্ষা করে। সেই কর্নার কিক থেকে যশোর সদর উপজেলাকে আনন্দের উপলক্ষ্য এনে দেন হাসান। বাপ্পি হোসেনের কর্নার থেকে নেয়া শট মনিরামপুরের বক্সে দাঁড়িয়ে থাকা বোয়াটেংয়ের মাথা ছুয়ে হাসানের পায়ে যায়। তা থেকে গোল করতে ভুল করেননি হাসান।
তিন মিনিটের মাথায় লেফট উইং দিয়ে অ্যাটাকে গোল পেলেও পরের সময়টা জুড়ে লেফট উইং প্রায় অকেজো ছিল। ডানপাশে থাকা মান্নাফ রাব্বির দিক থেকে বাববার আক্রমণে যাওয়ার চেষ্টা করছিল সদরের খেলোয়াড়রা। এছাড়া প্রথম ম্যাচে হ্যাটট্রিক করা বোয়াটেং এদিন ছিলেন নিজের ছায়া হয়ে। একমাত্র গোলের এসিস্ট ছাড়া তেমন কোন আক্রমণই গড়ে তুলতে পারেনি। ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধে বোয়াটেং তুলেও নেয় কোচ। এছাড়া সদর উপজেলার খেলোয়াড় এদিন শারিরীক শক্তি নির্ভর খেলার দেখা গেছে। দলের একাধিক খেলোয়াড় দেখেছেন হলুদ কার্ড।
এমন দুই ফাউল থেকে ফ্রিকিক ও পেয়েছিল মনিরামপুর। ২৫ মিনিটে মনিরামপুরের বিদেশি খেলোয়াড় শামসির নেয়া শট কর্নারের মাধ্যমে রক্ষা করে সদরের গোলরক্ষক মিতুল। তিন মিনিট পর ডি-বক্সের বাইরে থেকে আবার ফ্রি কিক পায়। এবারও সদরের ত্রাণকর্তা হয়ে আসে গোলরক্ষক মিতুল।
মনিরামপুরের খেলোয়াড়রা একাধিকবার গোলের সুযোগ পেলেও তা থেকে গোল আদায় করতে পারেনি। ফলে ম্যাচের তিন মিনিটে হাসানের করা গোলটিই শেষ পর্যন্ত জয় নির্ধারণী গোলে পরিণত হয়।
