২৪ জনের মৃত্যুর দুই বছর পর ৭ আসামির অব্যাহতি চেয়ে আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন
নিজস্ব প্রতিবেদক
যশোরের আলোচিত জাবির ইন্টারন্যাশনাল হোটেলে লুটপাট, অগ্নিসংযোগ ও ২৪ জনের মৃত্যুর ঘটনায় দায়ের করা মামলায় কাউকেই শনাক্ত করতে পারেনি পুলিশ। দীর্ঘ দুই বছর তদন্তের পর সন্দেহভাজন হিসেবে গ্রেফতার আওয়ামী লীগের সাত নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে সরাসরি সম্পৃক্ততার প্রমাণ না পাওয়ায় তাদের অব্যাহতি চেয়ে আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দিয়েছেন তদন্ত কর্মকর্তা।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও যশোর কোতোয়ালি থানার পরিদর্শক (তদন্ত) কাজী বাবুল হোসেন সম্প্রতি আদালতে এ প্রতিবেদন জমা দেন। বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় তিনি বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তদন্ত কর্মকর্তা জানান, মামলার তদন্তকালে বিভিন্ন সময়ে সন্দেহভাজন হিসেবে সাতজনকে গ্রেফতার দেখানো হয়েছিল। কিন্তু তাদের জিজ্ঞাসাবাদ, সাক্ষীদের বক্তব্য ও তদন্তে ঘটনার সঙ্গে সরাসরি জড়িত থাকার মতো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। এ কারণে সাতজনের অব্যাহতি চেয়ে আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেওয়া হয়েছে। এখন মামলার বিষয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত আদালত দেবেন।
৫ আগস্টের সেই ভয়াবহ রাত :
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট বিকেলে যশোর শহরের চিত্রা মোড়-এমএম আলী রোডের জাবির ইন্টারন্যাশনাল হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, দুর্বৃত্তরা গানপাউডার ও পেট্রোল নিয়ে হোটেলে প্রবেশ করে। পরে ক্যাশ ভল্ট ভেঙে প্রায় ৯০ লাখ টাকা লুটসহ হোটেলের বিভিন্ন মূল্যবান সামগ্রী নিয়ে যায়।
অভিযোগে আরও বলা হয়, হোটেলের ফ্রিজ, স্মার্ট টেলিভিশন, জেনারেটর, ট্রান্সফরমার, সাবস্টেশন, প্রেসার পাম্প, ফায়ার ইঞ্জিন, আসবাবপত্রসহ বিপুল পরিমাণ মালামাল লুট করা হয়।
এরপর হোটেলের প্রথম তলা থেকে ১৬ তলা পর্যন্ত আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। ভয়াবহ আগুনে একজন ইন্দোনেশীয় নাগরিকসহ ২৪ জনের মৃত্যু হয়। নিহতদের মধ্যে হোটেলের কর্মচারী ও অতিথি ছিলেন।
অজ্ঞাত ২০০ জনের বিরুদ্ধে মামলা :
ঘটনার ১৩ দিন পর, ১৮ আগস্ট সাবেক সদর উপজেলা চেয়ারম্যান তৌহিদ চাকলাদার ফন্টু বাদী হয়ে অজ্ঞাতপরিচয় প্রায় ২০০ জনকে আসামি করে যশোর কোতোয়ালি থানায় মামলা করেন।
মামলার অভিযোগে হোটেলের মূল্যবান কাগজপত্র, আসবাবপত্র, ইলেকট্রিক সামগ্রী, লিফট, জানালার গ্রিল, কাচের দরজা ও বিভিন্ন ডেকোরেশন পুড়ে যাওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়। এতে মূল ভবনেরও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয় বলে অভিযোগে বলা হয়।
সন্দেহে গ্রেফতার, শেষ পর্যন্ত অব্যাহতির আবেদন :
তদন্ত চলাকালে সন্দেহভাজন হিসেবে আওয়ামী লীগের বিভিন্ন পর্যায়ের সাত নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করা হয়। তারা হলেন—আব্দুল খালেক (৬৫), এনামুল হক (৫৯), আব্দুর রহমান শাওন (৩৬), অ্যাডভোকেট সৈয়দ কবির হোসেন জনি (৪১), এস এম আজাহার হোসেন স্বপন (৫২), কাজী রবিউল হোসেন ওরফে ভাইপো রবিউল (৩১) ও ইমন কাজী (২৬)।
তদন্ত কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, দীর্ঘ তদন্ত, জিজ্ঞাসাবাদ ও সাক্ষীদের বক্তব্য পর্যালোচনা করেও তাদের বিরুদ্ধে ঘটনার সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া যায়নি। ফলে তাদের অব্যাহতি চেয়ে আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেওয়া হয়েছে।
