বোন জামাই ইমনের সঙ্গে পুরনো বিরোধ, পিচ্চি হেলালের নাম ঘিরে বিভ্রান্তি—ঘনীভূত হচ্ছে হত্যার রহস্য
নিজস্ব প্রতিবেদক
রাজধানীর নিউমার্কেট এলাকায় শীর্ষ সন্ত্রাসী খন্দকার নঈম আহমেদ টিটন হত্যাকাণ্ড নতুন মোড় নিয়েছে। তার ঘনিষ্ঠজন ও পরিবারের সদস্যদের মধ্যকার দীর্ঘদিনের দ্বন্দ্ব, বিশেষ করে বোন জামাই সানজিদুল ইসলাম ইমনের সঙ্গে বিরোধ, এই হত্যার পেছনের সম্ভাব্য কারণ হিসেবে সামনে আসছে। একই সঙ্গে মামলাকে ভিন্নখাতে নেওয়ার চেষ্টা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
গত সপ্তাহে নিউমার্কেট এলাকায় প্রকাশ্যে গুলিতে নিহত হন তালিকাভুক্ত শীর্ষ সন্ত্রাসী টিটন। ঘটনার পর থেকেই তার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ও পুরনো বিরোধগুলো নতুন করে আলোচনায় আসে।
গোয়েন্দা সূত্র ও সংশ্লিষ্টদের দাবি, টিটনের সঙ্গে তার বোন জামাই সানজিদুল ইসলাম ইমনের দীর্ঘদিনের আধিপত্য ও আর্থিক নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিরোধ ছিল। একই অপরাধচক্রে থাকলেও পরে তাদের সম্পর্ক শত্রুতায় রূপ নেয়। কারাগারে থাকাকালীন এই দ্বন্দ্ব আরও গভীর হয় বলে জানা গেছে।
একটি সূত্র জানায়, টিটনের হত্যার পেছনে পরিকল্পিত চক্র সক্রিয় থাকতে পারে, যেখানে পেশাদার খুনিদের ব্যবহার করা হয়েছে। ফলে ঘটনাটি কেবল ব্যক্তিগত দ্বন্দ্ব নয়, বরং সুসংগঠিত পরিকল্পনার অংশ বলেও সন্দেহ করা হচ্ছে।
অন্যদিকে মামলায় ইমামুল হাসান হেলাল ওরফে পিচ্চি হেলালের নাম আসলেও তিনি নিজেকে নির্দোষ দাবি করেছেন। একটি অডিও বার্তায় তিনি বলেন,
“টিটন আমার ঘনিষ্ঠ বন্ধু ছিল। তাকে হত্যার প্রশ্নই আসে না। আমাকে পরিকল্পিতভাবে ফাঁসানো হচ্ছে।”
তদন্ত সংশ্লিষ্টদের একাংশের মতে, পিচ্চি হেলালের নাম সামনে এনে তদন্তকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা হতে পারে। তবে এখনো কোনো পক্ষের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছায়নি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
গোয়েন্দারা বলছেন, টিটনের ব্যক্তিগত সম্পর্ক, পুরনো শত্রুতা এবং অপরাধ জগতের আধিপত্য—সবকিছু মিলিয়ে হত্যাকাণ্ডের পেছনে একাধিক স্তরের কারণ থাকতে পারে।
🔍 উপসংহার:
টিটন হত্যার ঘটনায় ঘনিষ্ঠদের দ্বন্দ্ব, পুরনো বিরোধ এবং অপরাধচক্রের জটিল সম্পর্ক তদন্তকে আরও রহস্যময় করে তুলেছে। প্রকৃত রহস্য উদঘাটনে এখনো অপেক্ষা করতে হচ্ছে চূড়ান্ত তদন্ত প্রতিবেদনের ওপর।
