দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের উন্নয়নে তাঁর অবদান স্মরণ; আলেমদের বক্তব্যে উঠে এলো জনসম্পৃক্ততা ও মানবিক নেতৃত্বের কথা।
নিজস্ব প্রতিবেদক
বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেকমন্ত্রী তরিকুল ইসলামের অষ্টম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে তাঁর রুহের মাগফিরাত কামনায় যশোরে দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার বাদ আসর যশোরের দড়াটানা আল জামিয়াতুল ইসলামিয়া মাদ্রাসা মসজিদে পারিবারিক উদ্যোগে এ দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়।
বরেণ্য এই রাজনীতিকের স্মরণে আয়োজিত দোয়া মাহফিলে যশোরের উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তা, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, জনপ্রতিনিধি, ব্যবসায়ী, সাংবাদিক, আইনজীবী, শিক্ষক, চিকিৎসক, আলেম-ওলামাসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার বিশিষ্ট ব্যক্তিরা অংশ নেন।
মুনাজাতের আগে যশোরের বিশিষ্ট আলেমরা তরিকুল ইসলামের রাজনৈতিক জীবন, জনসম্পৃক্ততা এবং সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে তাঁর নিবিড় সম্পর্কের স্মৃতিচারণ করেন। বক্তারা বলেন, তরিকুল ইসলাম তাঁর কর্ম, আন্তরিকতা ও জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডের মধ্য দিয়ে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মানুষের হৃদয়ে স্থায়ী জায়গা করে নিয়েছেন। দল-মত, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সব শ্রেণির মানুষের সঙ্গে তাঁর ছিল আত্মিক সম্পর্ক। তিনি শুধু একজন রাজনৈতিক নেতা ছিলেন না, ছিলেন সাধারণ মানুষের সুখ-দুঃখের সাথী।
বক্তারা আরও বলেন, বিশেষ করে যশোরের আলেম সমাজের সঙ্গে তরিকুল ইসলামের সম্পর্ক ছিল অত্যন্ত গভীর ও আন্তরিক। তিনি আলেম-ওলামাদের যথেষ্ট সম্মান করতেন। একইভাবে আলেম সমাজও তাঁকে শ্রদ্ধা ও সম্মানের চোখে দেখতেন। আলেম সমাজের কেউ কোনো প্রয়োজনে তাঁকে স্মরণ করলে তিনি আন্তরিকতার সঙ্গে সাড়া দিতেন। মানুষের প্রতি তাঁর ভালোবাসা, শ্রদ্ধাবোধ ও সহযোগিতার মানসিকতা তাঁকে সবার কাছে গ্রহণযোগ্য করে তুলেছিল।
তাঁরা বলেন, তরিকুল ইসলাম তাঁর রাজনৈতিক প্রজ্ঞা, সাংগঠনিক দক্ষতা ও উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে যশোরসহ দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মানুষের কাছে স্মরণীয় হয়ে আছেন। তাঁর অবদান ও জনসম্পৃক্ততার স্মৃতি আগামী দিনেও মানুষের মধ্যে বেঁচে থাকবে।
স্মৃতিচারণমূলক বক্তব্য দেন জেলা ইমাম পরিষদের সিনিয়র সহসভাপতি মাওলানা মুফতি আব্দুল মান্নান, জেলা ফতোয়া বোর্ডের সাধারণ সম্পাদক মাওলানা মুফতি আব্দুর রহমান এজাজী, দড়াটানা মাদ্রাসার শিক্ষক মাওলানা আব্দুল কুদ্দুস এবং বারান্দিপাড়া মাদ্রাসার শিক্ষক মুফতি শামসুর রহমান। দোয়া মাহফিল পরিচালনা করেন দড়াটানা জামে মসজিদের খতিব মুফতি আমানুল্লাহ কাসেমী।
দোয়া মাহফিলে উল্লেখযোগ্য ব্যক্তিদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন তরিকুল ইসলামের কনিষ্ঠ পুত্র বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আশেক হাসান, পুলিশ সুপার সৈয়দ রফিকুল ইসলাম, যশোর স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক রফিকুল হাসান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) খান মাসুম বিল্লাহ, জেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট সৈয়দ সাবেরুল হক সাবু ও সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন খোকন।
এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন যশোর মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ আহমেদ ফেরদৌস জাহাঙ্গীর সুমন, সিভিল সার্জন মাসুদ রানা, ডেপুটি সিভিল সার্জন নাজমুস সাদিক, যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক হুসাইন সাফায়াত, আরএমও আহসান কবির বাপ্পি, যশোর এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী আহমেদ মাহবুবুর রহমান, যশোর সরকারি এম এম কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক হারুন অর রশিদ এবং সরকারি সিটি কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক আব্দুস সালাম আজাদ।
তরিকুল ইসলামের জ্যেষ্ঠ পুত্র ও বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের পরিচালক শান্তনু ইসলাম সুমিত, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহরিয়ার হক, যশোর চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি মিজানুর রহমান খান ও সম্পাদক তানভীরুল ইসলাম সোহান, জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি নজরুল ইসলাম ও মোহাম্মদ ইসহক অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
সাংবাদিকদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন প্রেসক্লাব যশোরের সভাপতি জাহিদ হাসান টুকুন ও সম্পাদক নুর ইসলাম, যশোর সংবাদপত্র পরিষদের সভাপতি একরাম-উদ-দ্দৌলা ও সাধারণ সম্পাদক মবিনুল ইসলাম মবিন, সুবর্ণভূমির সম্পাদক ও প্রকাশক এজাজ উদ্দিন টিপু, প্রেসক্লাব যশোরের সাবেক সম্পাদক আহসান কবির বাবু, এস এম তৌহিদুর রহমান এবং দৈনিক লোকসমাজ পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক আনোয়ারুল কবির নান্টু, দৈনিক কল্যাণ পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক এহসান উদ-দৌলা মিথুন।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ কলেজ শিক্ষক সমিতি যশোর জেলা শাখার সভাপতি ও ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মকবুল হোসেন, সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ইবাদত খান, বিশিষ্ট আলেম মুফতি নাসিরুল্লাহ, নাসিব যশোরের সভাপতি সাকির আলী, ডা. আব্দুর রাজ্জাক মিউনিসিপ্যাল কলেজের অধ্যক্ষ জে এম ইকবাল হোসেন, নতুনহাট পাবলিক কলেজের অধ্যক্ষ মোয়াজ্জেম হোসেন এবং বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আহ্বায়ক রাশেদ খানসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার বিশিষ্ট ব্যক্তিরা।
দোয়া মাহফিলে মরহুম তরিকুল ইসলামের বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবন, জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ড এবং যশোরসহ দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের উন্নয়নে তাঁর অবদান গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করা হয়। শেষে তাঁর বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ মুনাজাত করা হয়। একই সঙ্গে শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের ধৈর্য ধারণের তৌফিক এবং দেশ ও জাতির শান্তি, সমৃদ্ধি ও কল্যাণ কামনা করা হয়।
