‘স্মরণকালের বৃহত্তম’ জনসভা ঘিরে উৎসবমুখর যশোর
নিজস্ব প্রতিবেদক
দীর্ঘ সময়ের অপেক্ষা, তৃণমূলের আবেগÑসবকিছুর মিলনমেলায় আজ সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) প্রথমবারের মতো যশোরের মাটিতে পা রাখছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারম্যান তারেক রহমান। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে তার এই সফরকে কেন্দ্র করে গোটা যশোরাঞ্চলে সৃষ্টি হয়েছে রাজনৈতিক উচ্ছ্বাস, আগ্রহ ও উৎসবের আমেজ। বিএনপি নেতাকর্মীদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের মধ্যেও দেখা যাচ্ছে ব্যাপক উদ্দীপনা। এই আগমনকে ঘিরে গোটা যশোরজুড়ে ব্যানার, ফেস্টুন, মাইকিং আর মানুষের উচ্ছ্বাসে বদলে গেছে শহরের চিত্র।
দলীয় সূত্র জানায়, আজ দুপুর দেড়টা থেকে পৌনে ২টার মধ্যে হেলিকপ্টারযোগে যশোর উপশহর প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে পৌঁছাবেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। পরে তিনি উপশহর ডিগ্রি কলেজ মাঠে আয়োজিত বিশাল নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেবেন। বেলা ১২টায় জনসভার আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হবে। বিকেল ৩টা বিএনপি চেয়ারম্যান ভাষণ দিবেন। সভায় সভাপতিত্ব করবেন দলের ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু। তার সঙ্গে কেন্দ্রীয় পর্যায়ের শীর্ষ নেতারাও উপস্থিত থাকবেন।
এর আগে দুপুর ১২টায় খুলনার জনসভায় বক্তব্য শেষে হেলিকপ্টারযোগে যশোরে আসবেন তারেক রহমান। যশোরে তার অবস্থান থাকবে প্রায় এক ঘণ্টা বা তার কিছু বেশি সময়।
স্মরণকালের বৃহত্তম জনসমাবেশের প্রস্তুতি :
যশোর জেলা বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনগুলোর নেতাকর্মীরা দাবি করেছেন, তারেক রহমানের এই প্রথম সফরকে ঘিরে আয়োজিত জনসভাটি হবে যশোরের রাজনৈতিক ইতিহাসে ‘স্মরণকালের বৃহত্তম’ জনসমাবেশ। মাত্র দুই দিনের নোটিসে এই বিশাল সমাবেশ আয়োজন করতে দিনরাত অক্লান্ত পরিশ্রম করছেন নেতাকর্মীরা।
যশোর জেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট সৈয়দ সাবেরুল হক সাবু জানান, জনসমাগম ও জনদুর্ভোগের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে প্রথমবারের মতো শহরের বাইরে উপশহর ডিগ্রি কলেজ মাঠে জনসভার আয়োজন করা হয়েছে। মাঠের উত্তর পাশে নির্মাণ করা হয়েছে বিশাল মঞ্চ। পাশাপাশি উপশহর পার্ক, পার্শ্ববর্তী ঈদগাহ ময়দান ও বাদশাহ ফয়সাল ইসলামী ইনস্টিটিউট স্কুল মাঠে স্থাপন করা হচ্ছে জায়ান্ট স্ক্রিন, যাতে বিপুল সংখ্যক মানুষ নির্বিঘ্নে জনসভা উপভোগ করতে পারেন।
রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে প্রেসক্লাব যশোরে শহীদ গোলাম মাজেদ মিলনায়তনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির খুলনা বিভাগীয় ভারপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক ও যশোর-৩ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত জানান, যশোরের এই জনসভা থেকেই তারেক রহমান যশোরসহ খুলনা ও কুষ্টিয়া বিভাগের ৭ থেকে ৮টি জেলার ‘ধানের শীষ’ প্রতীকের প্রার্থীদের আনুষ্ঠানিকভাবে জনগণের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেবেন।
তিনি বলেন, “দলীয় প্রধানের আগমনকে ঘিরে সর্বস্তরের নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ ও উদ্দীপনা বিরাজ করছে। প্রচারণা চালানোর সুযোগ না থাকলেও যশোরের মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে এই জনসভায় যোগ দেবেন। আশা করছি বিপুল জনসমাগম হবে।”
উন্নয়ন ভাবনা ও যশোরের দাবি তুলে ধরার প্রস্তুতি :
সংবাদ সম্মেলনে অনিন্দ্য ইসলাম অমিত আরও জানান, যশোরের বিভিন্ন সমস্যা ও সম্ভাবনা নিয়ে তারেক রহমানের সঙ্গে আলোচনা হবে। বিএনপি রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পেলে যশোরের উন্নয়নে কী কী প্রয়োজনÑসে বিষয়ে একটি তালিকাও প্রস্তুত করা হয়েছে।
তিনি বলেন, “আমরা জনগণের জন্য রাজনীতি করি। মানুষের কষ্ট ও দুর্ভোগের কথা মাথায় রেখেই সমাবেশস্থল নির্বাচন করা হয়েছে। তারপরও আশপাশের মানুষের সাময়িক ভোগান্তির জন্য অগ্রিম ক্ষমা চাইছি।”
তিন স্তরের কঠোর নিরাপত্তা :
তারেক রহমানের যশোর সফর ঘিরে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে পুলিশ প্রশাসন। রোববার জনসভাস্থল পরিদর্শনকালে যশোরের পুলিশ সুপার সৈয়দ রফিকুল ইসলাম জানান, বিএনপি চেয়ারম্যানের আগমনকে কেন্দ্র করে তিন স্তরের নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলা হয়েছে।
তিনি বলেন, “পুলিশ, গোয়েন্দা সংস্থা ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সমন্বয়ে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। জনসভাস্থল, আশপাশের এলাকা এবং আগমন-বহির্গমন পথগুলো বিশেষ নজরদারিতে থাকবে। কোনো ধরনের নিরাপত্তা ঝুঁকি থাকবে না।”
উৎসবের আমেজে যশোর :
গতকাল সরেজমিনে দেখা গেছে, উপশহর ডিগ্রি কলেজ মাঠে দ্রুতগতিতে চলছে মঞ্চ নির্মাণ, সাউন্ড সিস্টেম স্থাপন ও প্যান্ডেল সাজসজ্জার কাজ। স্বেচ্ছাসেবক দলসহ দলীয় কর্মীরা নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন জনসভা সফল করতে।
নেতাকর্মীদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের প্রত্যাশাÑতারেক রহমানের এই জনসভা যশোরের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন মাত্রা যোগ করবে এবং নির্বাচনী মাঠে বিএনপির কার্যক্রমে আরও গতি আনবে।
নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের বিশ্বাস, তারেক রহমানের এই প্রথম যশোর সফর শুধু একটি জনসভা নয়Ñএটি যশোরের রাজনীতিতে নতুন অধ্যায়ের সূচনা, নতুন আশার বার্তা।
