এএফ মৎস্য খামারে মাছের মৃত্যুর প্রধান কারণ ব্যবস্থাপনাগত দুর্বলতা
প্রেসবিজ্ঞপ্তি
যশোরের শার্শা উপজেলার বাহাদুরপুর ইউনিয়নের সোনামুখী বিলের কাছে এএফ মৎস্য খামারে ব্যাপক মাছের মৃত্যুর ঘটনায় জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে পরিচালিত তদন্তে প্রাথমিকভাবে মাছের মৃত্যুর প্রধান কারণ হিসেবে ঘনঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাটের অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়নি। বরং অতিরিক্ত মাছের মজুত, অপর্যাপ্ত এয়ারেশন, পানির গুণগত ভারসাম্যহীনতা এবং খামারের সামগ্রিক ব্যবস্থাপনাগত দুর্বলতাকেই এ বিপর্যয়ের প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
বুধবার (২৬ আগস্ট) যশোর জেলা প্রশাসনের মিডিয়া সেল থেকে প্রকাশিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, মাছের মৃত্যুর ঘটনায় বিভিন্ন প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘনঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাটকে প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করে বিভিন্ন প্রতিবেদন ও বক্তব্য প্রচারিত হয়। ঘটনার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে গঠিত তদন্ত কমিটি গত ২৫ আগস্ট ঘটনাস্থল সরেজমিন পরিদর্শন করে। এ সময় সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য নেওয়ার পাশাপাশি বিদ্যুৎ সরবরাহের রেকর্ড যাচাই এবং মৎস্য বিভাগের মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্ত জলাশয়ের পানির গুণাগুণ পরীক্ষা করা হয়।
তদন্তে প্রাপ্ত প্রাথমিক তথ্য-উপাত্তের বরাত দিয়ে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ২২ আগস্ট রাত ১টা ৪২ মিনিট থেকে রাত ২টা ২৬ মিনিট পর্যন্ত মোট প্রায় ৪৪ মিনিট বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ ছিল। এর আগে ও পরবর্তী সময়েও সংশ্লিষ্ট ফিডারে বিদ্যুৎ সরবরাহ সামগ্রিকভাবে স্বাভাবিক ছিল। তবে ওই খামারে মাছ মারা যাওয়ার ঘটনা লোডশেডিং শুরুর আগেই শুরু হয়।
তদন্ত কমিটির পর্যালোচনায় ঘনঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে মাছের মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে—গণমাধ্যমে প্রচারিত এমন বক্তব্যেরও তথ্যগত সমর্থন পাওয়া যায়নি বলে জানানো হয়েছে।
অন্যদিকে ক্ষতিগ্রস্ত জলাশয়ের পরিস্থিতি ও পানির গুণাগুণ পর্যালোচনায় বেশ কিছু ব্যবস্থাপনাগত ঘাটতি চিহ্নিত হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে—অত্যধিক মাছের মজুত ঘনত্ব, অধিক পরিমাণে উচ্চ আমিষসমৃদ্ধ খাদ্য প্রয়োগ, জৈব ও নাইট্রোজেনজাত বর্জ্যের চাপ, ফাইটোপ্ল্যাংকটনের অস্বাভাবিক আধিক্য, পানির pH, অ্যামোনিয়া ও দ্রবীভূত অক্সিজেনের মাত্রায় অসামঞ্জস্য এবং প্রয়োজনের তুলনায় অপর্যাপ্ত এয়ারেশন ব্যবস্থা।
এ ছাড়া জরুরি পরিস্থিতিতে এয়ারেশন ব্যবস্থা সচল রাখার জন্য বিকল্প বিদ্যুৎ ব্যবস্থার অনুপস্থিতিও তদন্তে উঠে এসেছে। এসব কারণের সম্মিলিত প্রভাবেই মাছের মৃত্যু ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে প্রতীয়মান হয়েছে।
প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, খামার মালিকপক্ষ বিভিন্ন গণমাধ্যমে বিপুল পরিমাণ মাছ, বৃহৎ বিনিয়োগ ও ব্যাপক আর্থিক ক্ষতির কথা উল্লেখ করার পাশাপাশি আর্থিক সীমাবদ্ধতার কারণে প্রয়োজনীয় জেনারেটর স্থাপন করা সম্ভব হয়নি বলে জানিয়েছে। তবে খামারপক্ষের দাবি করা বিনিয়োগ ও সম্পদের পরিমাণের তুলনায় জরুরি পরিস্থিতিতে এয়ারেশন ব্যবস্থা সচল রাখার জন্য বিকল্প বিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপনে প্রয়োজনীয় বিনিয়োগ তুলনামূলকভাবে সামান্য। ফলে এ বিষয়ে গণমাধ্যমে দেওয়া বক্তব্যে অসামঞ্জস্য রয়েছে বলে তদন্তে উল্লেখ করা হয়েছে।
একইভাবে, ঘনঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাটের বিষয়ে খামার মালিকপক্ষের বক্তব্যের সঙ্গেও বিদ্যুৎ বিভাগের সরবরাহ রেকর্ড এবং তদন্তে পাওয়া তথ্যের সামঞ্জস্য নেই বলে জানানো হয়।
জেলা প্রশাসনের প্রাথমিক তদন্ত অনুযায়ী, মাছের মৃত্যুর প্রধান কারণ বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থার ত্রুটি বা ঘনঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাট নয়। বরং অতিরিক্ত মাছের মজুতের বিপরীতে প্রয়োজনীয় কারিগরি সক্ষমতা, পর্যাপ্ত এয়ারেশন, বিকল্প বিদ্যুৎ ব্যবস্থা এবং যথাযথ ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত না করাসহ খামারের সামগ্রিক ব্যবস্থাপনাগত দুর্বলতাই এ বিপর্যয়ের প্রধান কারণ হিসেবে প্রতীয়মান হয়েছে।
জনস্বার্থে সঠিক ও বস্তুনিষ্ঠ তথ্য উপস্থাপনের লক্ষ্যে যথাযথ ফ্যাক্ট-চেকিং ও তথ্য যাচাই ছাড়া কোনো বিভ্রান্তিকর, অতিরঞ্জিত বা যাচাইবিহীন তথ্য প্রচার না করার জন্য সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি অনুরোধ জানিয়েছে জেলা প্রশাসন।
প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে স্বাক্ষর করেছেন যশোর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের মিডিয়া সেলের সহকারী কমিশনার অশীষ কুমার দাস।
