বাফুফে আয়োজিত বিশ্ব ফুটবল সপ্তাহে অংশ নিলো ৮০০ শিশু ফুটবলার—আর্জেন্টিনা ও পাকিস্তানের কূটনীতিকসহ বিশিষ্টজনদের উপস্থিতিতে জমজমাট আয়োজন
নিজস্ব প্রতিবেদক
শনিবারের তপ্ত রোদ উপেক্ষা করে যশোর সদর উপজেলার ফতেপুর ইউনিয়নের হামিদপুরে শামসুল হুদা ফুটবল একাডেমি মাঠ পরিণত হয় এক বিশাল উৎসবমুখর ক্রীড়া প্রাঙ্গণে। বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে) আয়োজিত ‘এএফসি গ্রাসরুট ডে ও বিশ্ব ফুটবল সপ্তাহ’ উপলক্ষে দিনভর ৭ থেকে ১৩ বছর বয়সী প্রায় ৮০০ ক্ষুদে ফুটবলার মেতে ওঠে ফুটবল আনন্দে। সকাল সাড়ে ৮টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত চলা এ আয়োজনে ফুটবলের প্রতি শিশুদের উচ্ছ্বাসে মুখর হয়ে ওঠে পুরো এলাকা।
তৃণমূল পর্যায়ে ফুটবলের টেকসই উন্নয়ন ও নতুন প্রতিভা অন্বেষণের লক্ষ্য নিয়ে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন জাতীয় সংসদের স্পিকার ও বীর মুক্তিযোদ্ধা মেজর হাফিজ উদ্দিন আহমেদ (বীর বিক্রম)। মাঠে উপস্থিত থেকে তিনি ক্ষুদে ফুটবলারদের উৎসাহ দেন এবং ফুটবলকে রাজনৈতিক ও আমলাতান্ত্রিক প্রভাবমুক্ত করার আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আর্জেন্টিনার রাষ্ট্রদূত মার্সালো কার্লোস সেসা, পাকিস্তান হাইকমিশনের ট্রেড অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট অ্যাটাচি জাইন আজিজ এবং বাফুফে সভাপতি তাবিথ আউয়াল। এছাড়াও এই আনন্দ অনুষ্ঠানে শামিল হয়েছিলেন জেলা পরিষদের প্রশাসক দেলোয়ার হোসেন খোকন, যশোরের জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ আশেক হাসান, জেলা পুলিশ সুপার সৈয়দ রফিকুল ইসলাম, শামসুল হুদা ফুটবল একাডেমির দূরদর্শী প্রতিষ্ঠাতা ও জাহেদী ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক নাসের শাহরিয়ার জাহেদী, যশোর জেলা বিএনপির সাংগঠনিক শহিদুল বারী রবু এবং স্থানীয় ক্রীড়ানুরাগী ও বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ।
উদ্বোধনী বক্তব্যে স্পিকার মেজর হাফিজ উদ্দিন আহমেদ স্বাধীনতার পরবর্তী সময়ের স্মৃতিচারণ করে যশোরে তাঁর সামরিক জীবনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, মাঠমুখী ও প্রকৃত ক্রীড়াপ্রেমীদের হাতেই দেশের ফুটবলের নেতৃত্ব থাকা উচিত। এ সময় তিনি তৃণমূল পর্যায়ের শিশুদের ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা নিয়েও আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
বাফুফে সভাপতি তাবিথ আউয়াল দেশের ক্রীড়া অবকাঠামো উন্নয়নে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন। তিনি জানান, আগামী বাজেটে ক্রীড়া খাতে পেশাদার কাঠামো গড়ে তুলতে বিশেষ বরাদ্দ রাখা হচ্ছে। পুরনো স্টেডিয়াম সংস্কার এবং নতুন আন্তর্জাতিক মানের স্টেডিয়াম নির্মাণের পরিকল্পনার কথাও তিনি উল্লেখ করেন।
অনুষ্ঠানের শেষাংশে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি জাতীয় দলের শৃঙ্খলা, খেলোয়াড়দের পেশাদার আচরণ এবং নতুন কোচ নিয়োগ প্রসঙ্গে কঠোর অবস্থানের কথা জানান। তিনি বলেন, শৃঙ্খলা ভঙ্গের ক্ষেত্রে চুক্তি অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ থাকবে।
দিনব্যাপী এ আয়োজনে ফুটবল খেলাকে ঘিরে শিশুদের উচ্ছ্বাস ছিল চোখে পড়ার মতো। ছোট ছোট পায়ে বলের পেছনে ছুটে চলা এই ক্ষুদে ফুটবলারদের মধ্যে থেকেই ভবিষ্যতে জাতীয় দলের তারকা উঠে আসবে—এমন প্রত্যাশাই ব্যক্ত করেন আয়োজক ও অতিথিরা।
বাংলাদেশ ও আর্জেন্টিনার মধ্যে তৃণমূল পর্যায়ের ফুটবল উন্নয়ন সহযোগিতার ধারাবাহিকতায় প্রতিবছর অনুষ্ঠিত হয় এই ‘এএফসি গ্রাসরুট ফুটবল ডে’। এবারের আয়োজনটি আবারও প্রমাণ করলো—সঠিক পরিচর্যা পেলে দেশের তৃণমূল থেকেই গড়ে উঠতে পারে ভবিষ্যতের ফুটবল তারকারা।
