নিজস্ব প্রতিবেদক
যশোর কারাগার থেকে মুক্তি পেয়েছেন স্ত্রী ও সন্তান হারানো ছাত্রলীগের (নিষিদ্ধঘোষিত সংগঠন) বাগেরহাট সদর উপজেলার সভাপতি জুয়েল হাসান ওরফে সাদ্দাম।
বুধবার (২৮ জানুয়ারি) জামিনের আদেশ কারাগারে পৌঁছানোর পর দুপুর প্রায় ২টার দিকে যশোর কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে তাকে মুক্তি দেওয়া হয়।
এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন যশোর জেলা প্রশাসকের সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট (অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত) সিনিয়র জেল সুপার আসিফ উদ্দীন।
এর আগে সোমবার (২৬ জানুয়ারি) মানবিক বিবেচনায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনের একটি মামলায় ছাত্রলীগ নেতা সাদ্দামকে ছয় মাসের অন্তর্বর্তীকালীন জামিন দেন বিচারপতি জে বি এম হাসান ও বিচারপতি আজিজ আহমদ ভূঞার সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ।
কারা সূত্র ও সাদ্দামের স্বজনদের বরাতে জানা যায়, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর গোপালগঞ্জ থেকে গ্রেপ্তার হন জুয়েল হাসান সাদ্দাম। পরে বাগেরহাট কারাগারে বন্দি থাকার পর ২০২৫ সালের ১২ ডিসেম্বর তাকে যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারে স্থানান্তর করা হয়।
এরই মধ্যে গত শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) বিকেলে বাগেরহাটের বেখেডাঙ্গা গ্রামে সাদ্দামের নিজ বাড়ি থেকে তার স্ত্রী কানিজ সুরভানা স্বর্ণালীর ঝুলন্ত মরদেহ এবং পাশ থেকে ৯ মাস বয়সী শিশু সন্তান নাজিমের নিথর দেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, বিষণ্ণতা থেকে সন্তানকে হত্যার পর স্বর্ণালী আত্মহত্যা করেন।
ঘটনার পরদিন ২৪ জানুয়ারি প্যারোল না পাওয়ায় সাদ্দামের স্ত্রী ও সন্তানের মরদেহ অ্যাম্বুলেন্সে করে যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারের গেটে নিয়ে যাওয়া হয়। কারা কর্তৃপক্ষের অনুমতিতে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে মাত্র পাঁচ মিনিটের জন্য জেলগেটের ভেতরে স্ত্রী ও সন্তানের মরদেহ দেখার সুযোগ দেওয়া হয় সাদ্দামকে।
প্যারোলে মুক্তি না দিয়ে এভাবে মরদেহ দেখানোর ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তীব্র সমালোচনা হয়।
এদিকে সাদ্দামের মুক্তিকে ঘিরে যশোর কারা কর্তৃপক্ষের তথ্য গোপনের অভিযোগ উঠেছে। দুপুরের পর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারের ফটকে গণমাধ্যমকর্মীদের অপেক্ষা করতে দেখা যায়। তবে কারা কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে কোনো স্পষ্ট তথ্য না দেওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন সাংবাদিকরা।
পরবর্তীতে সন্ধ্যায় জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট আসিফ উদ্দীন জানান, দুপুরেই সকল আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে সাদ্দামকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে।
সাদ্দামের ভাই শহিদুল ইসলাম বলেন, “প্রশাসন আমাদের গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলতে নিষেধ করেছেন। বাড়ি ফেরার পর সন্ধ্যায় সে তার স্ত্রী ও সন্তানের কবর জিয়ারত করে। সেখানে সে কান্নায় ভেঙে পড়ে।”
সর্বশেষ
- বিদ্যুৎ সাশ্রয় : সারাদেশে রাত ৮টার মধ্যে সব দোকান-শপিংমল বন্ধের সিদ্ধান্ত
- ইফার বই বিক্রয় সহকারী নজরুল কোটিপতির রহস্য কী ?
- এসএসসিতে নকল ঠেকাতে কঠোর যশোর শিক্ষা বোর্ড
- হেঁটে হেঁটে প্রধানমন্ত্রীর তদারকি
- জ্বালানিতে প্রতিদিন ১৬৭ কোটি টাকা ভর্তুকি দিচ্ছে সরকার : প্রতিমন্ত্রী অমিত
- রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ঘাটে বাস পদ্মা নদীতে পড়ে গেল, যাত্রীর উদ্ধারে অভিযান শুরু
- ২৫ মার্চ গণহত্যা দিবসে দেশব্যাপী এক মিনিট ‘ব্ল্যাকআউট’ কর্মসূচি
- ইরান যুদ্ধে কূল-কিনারা পাচ্ছেন না ট্রাম্প, খুঁজছেন বের হওয়ার পথ
