নিজস্ব প্রতিবেদক
কোদাল হাতে কেউ ড্রেনের ভেতর জমে থাকা ময়লা তুলছেন, কারও হাতে ডাস্টবিন—সেই ময়লা তাতে ভরছেন। কেউ দুই হাতে কুড়িয়ে নিচ্ছেন আবর্জনা, আবার কেউ বেলচা দিয়ে সেই ময়লা তুলে দিচ্ছেন ডাস্টবিনে। ব্যস্ত শহরের এক ভিন্ন দৃশ্য—যেখানে রাজনীতি নয়, মানুষের জন্য কাজ করাই যেন হয়ে উঠেছে প্রধান বার্তা।
যশোর শহরে কোনো রাজনৈতিক দলের এমন পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম আগে খুব একটা চোখে না পড়লেও শনিবার সেই ব্যতিক্রমী দৃশ্য দেখেছে শহরবাসী। যশোর জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতাকর্মীরা নিজেরাই হাতে তুলে নেন পরিচ্ছন্নতার সরঞ্জাম, নেমে পড়েন শহর পরিষ্কারের কাজে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনা মোতাবেক বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী এবং যশোর-৩ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য অনিন্দ্য ইসলাম অমিতের নির্বাচনী এলাকায় জেলা স্বেচ্ছাসেবক দল আনুষ্ঠানিকভাবে এই কর্মসূচি শুরু করে।
শনিবার সকালে যশোর পৌর সদরের ঘোপ এলাকার ৩ নম্বর ওয়ার্ডে এই কর্মসূচির উদ্বোধন করেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যাপক নার্গিস বেগম। এ সময় উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক প্রকৌশলী রবিউল ইসলাম, সাবেক সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য এ কে শরফুদ্দৌলা ছোটলুসহ দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।

প্রথম দিনেই শুধু ৩ নম্বর ওয়ার্ড নয়, পৌরসভার ১ ও ২ নম্বর ওয়ার্ডেও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম চালানো হয়। জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মোস্তফা আমির ফয়সাল এবং সদস্য সচিব রাজিদুর রহমান সাগর এই কর্মসূচিতে নেতৃত্ব দেন। এতে জেলা ও নগর স্বেচ্ছাসেবক দলের অসংখ্য নেতাকর্মী স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেন।
রাজনৈতিক কর্মসূচির বাইরে এমন জনকল্যাণমূলক উদ্যোগ যশোর পৌরবাসীর মধ্যেও বেশ প্রশংসা কুড়িয়েছে। অনেকেই বলছেন, নেতাকর্মীদের এই উদ্যোগ শহরবাসীকেও পরিচ্ছন্নতা বিষয়ে নতুন করে ভাবতে উদ্বুদ্ধ করবে।
জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মোস্তফা আমির ফয়সাল বলেন, “বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সম্প্রতি সরকারদলীয় সকল সংসদ সদস্যকে প্রতি সপ্তাহের শনিবার নিজ নিজ এলাকায় পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনার নির্দেশ দিয়েছেন। সামনে বর্ষা মৌসুম—এ সময় মশার উপদ্রব বেড়ে ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়ার মতো রোগ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা থাকে। জনগণকে আগাম সতর্ক ও সচেতন করতেই এই উদ্যোগ।”
তিনি আরও বলেন, “প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা এবং বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিতের দিকনির্দেশনায় যশোর পৌর সদরের তিনটি ওয়ার্ডে এই কর্মসূচি শুরু করেছি। আমরা চাই মানুষ নিজ নিজ এলাকায় পরিচ্ছন্নতার বিষয়ে সচেতন হোক। এই কার্যক্রম নিয়মিতভাবে চালিয়ে যাওয়া হবে।”
