ক্রীড়া ডেস্ক
বিয়ের ফুল ফুটল ফুটবল মহাতারকা ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর জীবনে। দীর্ঘ এক দশকের প্রেমের পর অবশেষে জীবনসঙ্গী জর্জিনা রদ্রিগেজকে বিয়ে করেছেন পর্তুগিজ কিংবদন্তি। ৪১ বছর বয়সী রোনালদো ও ৩২ বছর বয়সী জর্জিনার বিয়ে হয়েছে পর্তুগালের সৈকতশহর কাসকাইসে, একেবারেই ঘরোয়া ও ব্যক্তিগত আয়োজনে।
মঙ্গলবারের এই বিয়ের মধ্য দিয়ে প্রেমের সম্পর্ককে আনুষ্ঠানিকভাবে দাম্পত্যে রূপ দিলেন বিশ্বের অন্যতম আলোচিত এই তারকা জুটি। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন তাঁদের পাঁচ সন্তানও।
বিয়ের খবরটি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছে রোনালদোর প্রতিনিধিরা। তাঁর জনসংযোগ প্রতিষ্ঠান ব্রান্সউইক গ্রুপ এএফপিকে জানিয়েছে, পুরো আয়োজনটি ছিল ‘ব্যক্তিগত ও ঘরোয়া’। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রোনালদোর দেওয়া একটি ছবিও ছড়িয়ে পড়েছে দ্রুত। ছবিতে জর্জিনার হাতের ওপর নিজের হাত রেখেছেন তিনি; দুজনের অনামিকায় শোভা পাচ্ছে বিয়ের আংটি। ক্যাপশনে ছিল শুধু—‘C & G’ এবং একটি ভালোবাসার ইমোজি।
এক বছর আগে, ২০২৫ সালের ১১ আগস্ট, জর্জিনা ইনস্টাগ্রামে একটি ছবি দিয়ে তাঁদের বাগ্দানের খবর জানিয়েছিলেন। অনামিকায় বড় একটি আংটি পরে রোনালদোর হাতের ওপর নিজের হাত রেখেছিলেন তিনি। ঠিক এক বছর পর সেই দৃশ্য যেন পূর্ণতা পেল—এবার স্বামী-স্ত্রী হিসেবে একে অপরের হাত ধরে নতুন অধ্যায়ে পা রাখলেন দুজন।
গুঞ্জন ছিল অন্য ভেন্যুতে
বিয়ের স্থান নিয়ে বেশ কিছুদিন ধরেই জল্পনা চলছিল। পর্তুগিজ সংবাদমাধ্যমের খবর ছিল, লিসবনের বাইরে সিন্ত্রা কিংবা রোনালদোর জন্মভূমি মাদেইরায় হতে পারে বিয়ের আয়োজন।
মাদেইরার ফুনশালের একটি গির্জায় রোনালদোর বিয়ে হচ্ছে—এমন খবর ছড়িয়ে পড়লে সেখানে শত শত মানুষ ভিড়ও করেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত দেখা যায়, গির্জায় আসা বর-কনে রোনালদো-জর্জিনা নন। গির্জা কর্তৃপক্ষও আগেই জানিয়েছিল, সেখানে রোনালদোর বিয়ের কোনো অনুষ্ঠান নির্ধারিত নেই।
শেষ পর্যন্ত লিসবন থেকে প্রায় ৩০ কিলোমিটার পশ্চিমে আটলান্টিকের তীরের সুন্দর শহর কাসকাইসকে বিয়ের জন্য বেছে নেন রোনালদো-জর্জিনা। সেখানে তাঁদের একটি ভিলাও রয়েছে।
‘প্রথম দেখাতেই প্রেম’
আর্জেন্টিনার বুয়েনস এইরেসে জন্ম জর্জিনার। ২০১৬ সালে মাদ্রিদের একটি গুচি শোরুমে বিক্রয়কর্মী হিসেবে কাজ করার সময় রোনালদোর সঙ্গে তাঁর পরিচয়। সেই পরিচয়ই পরে রূপ নেয় প্রেমে।
জর্জিনার ভাষায়, সেটি ছিল ‘প্রথম দেখাতেই প্রেম’। দীর্ঘদিনের সম্পর্কের পর ২০১৭ সালে তাঁদের প্রেম প্রকাশ্যে আসে। ওই বছরের জানুয়ারিতে ফিফার ‘দ্য বেস্ট’ পুরস্কার অনুষ্ঠানে প্রথমবারের মতো একসঙ্গে জনসমক্ষে হাজির হন তাঁরা। কয়েক মাস পর জর্জিনার সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করেন রোনালদো।
২০২৫ সালে ভোগ অ্যারাবিয়াকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জর্জিনা বলেছিলেন, রোনালদোর কাছাকাছি আসার পর তাঁর মনে হয়েছিল—তাঁরা যেন একে অপরকে বহু বছর ধরে চেনেন।
পাঁচ সন্তান, এক পরিবারের গল্প
রোনালদো-জর্জিনার পরিবারও বেশ বড়। রোনালদোর বড় ছেলে ক্রিস্টিয়ানো জুনিয়রের জন্ম ২০১০ সালে। তাঁর মায়ের পরিচয় কখনো প্রকাশ করেননি রোনালদো।
২০১৭ সালে সারোগেসির মাধ্যমে জন্ম নেয় যমজ সন্তান ইভা মারিয়া ও মাতেও। একই বছর জর্জিনার কোলে আসে তাঁদের মেয়ে অ্যালানা মার্টিনা।
২০২২ সালে জর্জিনার গর্ভে যমজ সন্তান জন্ম নিলেও তাঁদের ছেলে অ্যাঞ্জেল জন্মের কিছুক্ষণ পর মারা যায়। তাঁদের মেয়ে বেলা সুস্থভাবে বেঁচে আছে।
মাঠে কিংবদন্তি, মাঠের বাইরে এখন স্বামী
ফুটবল মাঠে রোনালদোর অর্জনের তালিকা দীর্ঘ। পেশাদার ক্যারিয়ারে তাঁর গোলসংখ্যা ৯৭৬। ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড, রিয়াল মাদ্রিদ ও জুভেন্টাসের হয়ে ইতিহাস গড়ার পর বর্তমানে সৌদি প্রো লিগের ক্লাব আল নাসরে খেলছেন তিনি।
পাঁচবার জিতেছেন ব্যালন ডি’অর। পাঁচবার চ্যাম্পিয়নস লিগের শিরোপা জয়ের পাশাপাশি ইংল্যান্ড, স্পেন ও ইতালির ঘরোয়া লিগও জিতেছেন। পর্তুগালের হয়ে সবচেয়ে বেশি ম্যাচ খেলা ও সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ডও তাঁর দখলে।
ফুটবল তাঁকে দিয়েছে কিংবদন্তির মর্যাদা, আর দীর্ঘ এক দশকের প্রেমের পর জর্জিনা দিলেন জীবনের নতুন পরিচয়—রোনালদো এখন শুধু ফুটবলের ‘সিআর সেভেন’ নন, আর্জেন্টিনার বুয়েনস এইরেসে জন্ম নেওয়া জর্জিনার স্বামী; অর্থাৎ মজার ছলে বললে, আর্জেন্টিনার ‘জামাই’ও!
