শিল্পকলা একাডেমির সংস্কার ও আধুনিক পাঠাগার সুবিধার দাবি; দ্রুত বাস্তবায়নের আশ্বাস মন্ত্রীর
নিজস্ব প্রতিবেদক
যশোর সফরে এসে সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী বলেছেন, গত দুই দশক দেশ একটি ‘তমসাচ্ছন্ন অন্ধকার সময়’ অতিক্রম করেছে। সেই অন্ধকার ভেদ করে নতুন প্রভাত ও নতুন সূর্যোদয়ের পথে এগিয়ে যেতে হবে। তিনি বলেন, সংস্কৃতি, জ্ঞানচর্চা ও পাঠাভ্যাস পুনরুজ্জীবিত করেই একটি সুস্থ সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব।
গতকাল রোববার (১৭ মে) সকালে যশোরের ঐতিহ্যবাহী যশোর ইনস্টিটিউট পাবলিক লাইব্রেরি, যশোর শিল্পকলা একাডেমি ও টাউন ক্লাব পরিদর্শনকালে সাংবাদিক, কর্মকর্তা ও স্থানীয় সংস্কৃতিকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময়ে তিনি এসব কথা বলেন।
জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম-এর ‘ঐ নূতনের কেতন ওড়ে কালবৈশাখীর ঝড়, তোরা সব জয়ধ্বনি কর’ কবিতার উদ্ধৃতি দিয়ে মন্ত্রী বলেন, ধ্বংসস্তূপের মাঝেও নতুন সম্ভাবনার জন্ম হয়। দেশের সাংস্কৃতিক ও জ্ঞানভিত্তিক পরিবেশ পুনর্গঠনে সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।
তিনি বলেন, “যশোর শুধু একটি জেলা নয়, এটি বাংলাদেশের সংস্কৃতির প্রাণকেন্দ্রগুলোর একটি। আমি নিজেও যশোরের মানুষ। যশোরকে খুব ভালোবাসি। বর্তমান প্রজন্মকে পাঠাগারমুখী করতে আমাদের যে পরিকল্পনা রয়েছে, তা দ্রুত বাস্তবায়ন করা হবে।”
তরুণদের বই ও সংস্কৃতির কাছে ফিরিয়ে আনার ওপর গুরুত্ব দিয়ে মন্ত্রী জানান, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়, শিক্ষা মন্ত্রণালয়, সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় যৌথভাবে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করবে। পাঠাগারগুলোকে আধুনিক ও আকর্ষণীয় করে তুলতে ডিজিটালাইজেশন, আধুনিক রিডিং জোন, শিশু-কিশোর কর্নার এবং সাংস্কৃতিক কার্যক্রম বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে।
তিনি আরও বলেন, দীর্ঘদিন দেশের সাংস্কৃতিক অঙ্গনের অনেক ক্ষেত্র অবহেলিত ছিল। এখন সেই পিছিয়ে পড়া ক্ষেত্রগুলোকে নতুনভাবে পুনরুজ্জীবিত করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। সংস্কৃতি ছাড়া একটি জাতি এগোতে পারে না। যশোরের মাটি বহু গুণীজন, শিল্পী, সাহিত্যিক ও সংস্কৃতিসেবীর জন্ম দিয়েছে। সেই ধারাকে আবারও সক্রিয় করতে হবে।
যশোর ইনস্টিটিউট পাবলিক লাইব্রেরির উন্নয়ন ও সংস্কারের আশ্বাস দিয়ে মন্ত্রী বলেন, লাইব্রেরির আধুনিকায়নে প্রয়োজনীয় বরাদ্দ দেওয়া হবে। তবে বরাদ্দের পরিমাণ এখনই প্রকাশ করা হবে না। পাশাপাশি শিল্পকলা একাডেমির কার্যক্রম আরও গতিশীল করতে বরাদ্দ ও লজিস্টিক সহায়তা বৃদ্ধির কথাও জানান তিনি।
এ সময় যশোরের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আশেক হাসান বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী ইনস্টিটিউটের উন্নয়নে বিভিন্ন দাবি ইতোমধ্যে মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। পুরনো ভবন সংস্কার, পাঠকক্ষ সম্প্রসারণ, শিশু-কিশোরদের জন্য আলাদা কর্নার এবং নিয়মিত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে। এসব বাস্তবায়ন হলে যশোরের সাংস্কৃতিক অঙ্গনে নতুন গতি তৈরি হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
যশোর ইনস্টিটিউটের ঐতিহ্য ও পূর্বের অবস্থা ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে ইতোমধ্যে কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে ছয়টি প্রাথমিক প্রস্তাবনা মন্ত্রীর কাছে জমা দেওয়া হয়েছে। এই প্রস্তাবনার আলোকে নতুন প্রজন্মকে আকৃষ্ট করতে ই-বুক চালু, অনলাইন ওয়েবসাইট হালনাগাদ এবং আধুনিক আইসিটি প্রযুক্তির ব্যবহার নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের আকৃষ্ট করতে আগামী ২২, ২৩ ও ২৪ মে একটি ইনডোর বইমেলার আয়োজন করা হবে বলে জানানো হয়।
পরিদর্শনকালে মন্ত্রী লাইব্রেরির দুর্লভ ও প্রাচীন গ্রন্থসমূহ ঘুরে দেখেন এবং ঐতিহ্য সংরক্ষণে সহযোগিতার আশ্বাস দেন। স্থানীয় সংস্কৃতিকর্মীরা শিল্পকলা একাডেমির অডিটোরিয়াম সংস্কার, নিয়মিত প্রশিক্ষণ কর্মসূচি চালু এবং আধুনিক পাঠাগার সুবিধা নিশ্চিত করার দাবি জানান। মন্ত্রী দ্রুত এসব দাবি যাচাই করে বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়ার আশ্বাস দেন।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক রেজাউদ্দিন স্টালিন, যশোর জেলা পরিষদের প্রশাসক দেলোয়ার হোসেনে খোকন, যশোর জেলা প্রশাসক ও যশোর ইনিস্টিউটের সভাপতি মোহাম্মদ আশেক হাসান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক সার্বিক সুজন সরকার, প্রেসক্লাব যশোরের সভাপতি জাহিদ হাসান টুকুন, যশোর ইনস্টিউটের সাধারণ সম্পাদক এজেডএম সালেক, সহ সভাপতি সানোয়ার আলম খান দুলু, কার্যনির্বাহী সদস্য আনিসুর জামান পিন্টুসহ স্থানীয় শিল্পী, সাহিত্যিক ও সাংস্কৃতিক কর্মীরা।
