নিজস্ব প্রতিবেদক
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে যশোর জেলার ছয়টি সংসদীয় আসনে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের মধ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। বুধবার দুপুর ১২টায় জেলা প্রশাসকের কনফারেন্স রুমে জেলা রিটার্নিং অফিসার ও জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আশেক হাসান প্রার্থীদের হাতে নিজ নিজ প্রতীক তুলে দেন।
নির্বাচন তফসিল অনুযায়ী মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিনে যশোরের ছয়টি আসনে মোট ৩৫ জন প্রার্থী চূড়ান্তভাবে ভোটের লড়াইয়ে অবতীর্ণ হয়েছেন। এ সময় বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় পার্টিসহ বিভিন্ন নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের প্রার্থীদের তাদের দলীয় প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হয়। পাশাপাশি স্বতন্ত্র প্রার্থীদের পছন্দের তালিকা অনুযায়ী সাধারণ প্রতীক বুঝিয়ে দেওয়া হয়।
প্রতীক বরাদ্দ শেষে জেলা রিটার্নিং অফিসার প্রার্থীদের নির্বাচনী আচরণবিধি কঠোরভাবে মেনে চলার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, আগামীকাল বৃহস্পতিবার থেকে প্রার্থীরা নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণা চালাতে পারবেন, তবে তা অবশ্যই নির্বাচন কমিশনের নির্ধারিত নিয়ম-কানুনের আওতায় থাকতে হবে।
প্রতিটি আসনের পরিস্থিতি:
যশোর-১ (শার্শা):
৪ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। প্রতীক বরাদ্দ হলো:
-
মুহাম্মদ আজিজুর রহমান (জামায়াতে ইসলামী) – দাঁড়িপাল্লা
-
মো. জাহাঙ্গীর আলম চঞ্চল (জাতীয় পার্টি) – লাঙ্গল
-
মো. নুরুজ্জামান লিটন (বিএনপি) – ধানের শীষ
-
মো. বকতিয়ার রহমান (ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ) – হাতপাখা
যশোর-২ (ঝিকরগাছা-চৌগাছা):
৮ প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। প্রধান প্রতীকধারীরা:
-
মোছা. সাবিরা সুলতানা (বিএনপি) – ধানের শীষ
-
মোহাম্মদ মোসলেহউদ্দীন ফরিদ (জামায়াত) – দাঁড়িপাল্লা
-
মো. ইদ্রিস আলী (ইসলামী আন্দোলন) – হাতপাখা
-
মো. ইমরান খান (বাসদ) – মই
-
মো. শামসুল হক (বিএনএফ) – টেলিভিশন
-
রিপন মাহমুদ (এবি পার্টি) – ঈগল
-
স্বতন্ত্র: মো. জহুরুল ইসলাম – ঘোড়া, মো. মেহেদী হাসান – ফুটবল
জহুরুল ইসলাম মনোনয়ন প্রত্যাহারের ঘোষণা দিলেও আনুষ্ঠানিক কাগজপত্র জমা দেননি।
যশোর-৩ (সদর):
৬ প্রার্থী লড়াই করছেন। প্রতীক বরাদ্দ হলো:
-
অনিন্দ্য ইসলাম অমিত (বিএনপি) – ধানের শীষ
-
মুহাম্মদ শোয়াইব হোসেন (ইসলামী আন্দোলন) – হাতপাখা
-
মো. আব্দুল কাদের (জামায়াত) – দাঁড়িপাল্লা
-
মো. খবির গাজী (জাতীয় পার্টি) – লাঙ্গল
-
মো. নিজামুদ্দিন অমিত (জাগপার) – চশমা
-
মো. রাশেদ খান (সিপিবি) – কাস্তে
যশোর-৪ (বাঘারপাড়া-অভয়নগর):
৭ প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। প্রধান প্রতীকগুলো:
-
এম. নাজিম উদ্দীন-আল-আজাদ (স্বতন্ত্র) – মোটর সাইকেল
-
বায়েজীদ হোসাইন (ইসলামী আন্দোলন) – হাতপাখা
-
মতিয়ার রহমান ফারাজি (বিএনপি) – ধানের শীষ
-
মাও. আশেক এলাহী (খেলাফত মজলিস) – দেওয়াল ঘড়ি
-
মো. গোলাম রসুল (জামায়াত) – দাঁড়িপাল্লা
-
মো. জহুরুল হক (জাতীয় পার্টি) – লাঙ্গল
-
সুকৃতি কুমার মণ্ডল (বিএমজেপি) – রকেট
যশোর-৫ (মণিরামপুর):
৫ প্রার্থী লড়াই করছেন। প্রতীক বরাদ্দ হলো:
-
এম. এ হালিম (জাতীয় পার্টি) – লাঙ্গল
-
গাজী এনামুল হক (জামায়াত) – দাঁড়িপাল্লা
-
মো. জয়নাল আবেদীন (ইসলামী আন্দোলন) – হাতপাখা
-
রশীদ আহমাদ (বিএনপি) – ধানের শীষ
-
শহীদ মো. ইকবাল হোসেন (স্বতন্ত্র) – কলস
যশোর-৬ (কেশবপুর):
৫ প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। প্রধান প্রতীকগুলো:
-
জিএম হাসান (জাতীয় পার্টি) – লাঙ্গল
-
মো. আবুল হোসেন আজাদ (বিএনপি) – ধানের শীষ
-
মো. মাহমুদ হাসান (এবি পার্টি) – ঈগল
-
মো. মোক্তার আলী (জামায়াত) – দাঁড়িপাল্লা
-
মো. শহিদুল ইসলাম (ইসলামী আন্দোলন) – হাতপাখা
এদিকে যশোরের ছয়টি সংসদীয় আসনে মোট ২৪ লাখ ৭১ হাজার ৯০৮ জন ভোটার আসন্ন নির্বাচনে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। এ জন্য জেলার ৮২৪টি ভোটকেন্দ্রের ৪ হাজার ৬৭৯টি ভোটকক্ষে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচন সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে মোট ১৪ হাজার ৮৬১ জন ভোট গ্রহণকারী কর্মকর্তা দায়িত্ব পালন করবেন। এর মধ্যে রয়েছেন ৮২৪ জন প্রিজাইডিং অফিসার, ৪ হাজার ৬৭৯ জন সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার এবং ৯ হাজার ৩৫৮ জন পোলিং অফিসার।
প্রতীক বরাদ্দের মধ্য দিয়ে যশোরের নির্বাচনী মাঠে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রচারণার প্রস্তুতি সম্পন্ন হলো এবং ভোটের আমেজ ছড়িয়ে পড়তে শুরু করেছে।
