প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে গড়িমশির অভিযোগ
কর্মবিরতি চলবে ২৪ মার্চ পর্যন্ত
দাবি আদায় না হলে কঠোর কর্মসূচির ডাক দেবে বাকাসস
সুনীল ঘোষ: প্রথম দিনের কর্মবিরতিতেই চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে যশোর কালেক্টরি, ইউএনও ও ভূমি অফিসে সেবা নিতে আসা মানুষের। মঙ্গলবার সকালে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোতে তালা ঝুলিয়ে কর্মবিরতি পালন করেন মাঠ প্রশাসনের দেড় শতাধিক কর্মচারী। এর ফলে দূর-দূরান্ত থেকে আসা সেবা প্রত্যাশীরা নিরুপায় হয়ে বাড়ি ফিরে যান।
পদ-পদবীসহ বেতন স্কেলে বৈষম্য সৃষ্টির প্রতিবাদে যশোর কালেক্টরেট সহকারি সমিতির নেতৃত্বে পূর্ণদিবস কর্মবিরতি শুরু হয়েছে। কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে যশোরে কর্মবিরতিতে নেমেছেন ১৬০ জন তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারি। সকালে অফিসের দরজায় তালা ঝুলিয়ে তারা কালেক্টরেট চত্বরে অবস্থান নেন। এ সময় সংক্ষিপ্ত বক্তব্য রাখেন-বাকাসস যশোরের সভাপতি ফিরোজ আহমেদ, সাধারণ সম্পাদক শরিফুল ইসলাম ও সহসভাপতি এসএম আতিয়ার রহমান। কিছুক্ষণ পর তারা স্ব-স্ব অফিসের দরজার সামনে অবস্থান নেন। দিনভর দরজার সামনে বসে সময় পার করেন আন্দোলনকারীরা।
কেন্দ্রীয় বাকাসস ১ মার্চ থেকে ২৪ মার্চ পর্যন্ত কর্মবিরতি কর্মসূচির ডাক দিয়েছে। এর মধ্যে দাবি-দাওয়া মেনে নেয়া হলে চলমান কর্মসূচি প্রত্যাহার করবে সংগঠনটি।
এদিকে বাকাসস কর্মসূচির ডাক দিলেও বিষয়টি জানা ছিল না সাধারণ কোনো মানুষের। যে কারণে মঙ্গলবার অনেকেই কালেক্টরি, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয় ও ভূমি অফিসে সেবা নিতে এসে বিপাকে পড়েন। এদিক-সেদিক ঘোরাঘুরি করেও সেবা পাননি কেউ। শেষ পর্যন্ত তাদের বাড়ি ফিরে যেতে দেখা যায়।
সকাল সোয়া ৯টার দিকে যশোর কালেক্টরেট চত্বরে বাকাসস’র নেতৃত্বে কর্মচারিদের অবস্থান নিতে দেখা যায়। উপরে গিয়ে নজরে পড়ে ই-সেবা কেন্দ্রসহ কর্মচারিদের অফিস দরজায় তালা ঝুলছে। কিছুক্ষণ পর কালেক্টরেট চত্বর ছেড়ে স্ব-স্ব অফিসের সামনে চেয়ারে বসে থাকতে দেখা যায় আন্দোলনকারীদের।
এ সময় আবুল কাশেম নামে এক বৃদ্ধকে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে ঘোরাঘুরি করতে দেখা যায়। তিনি বলেন, তার বাড়ি মণিরামপুর উপজেলার রামনাথপুর গ্রামে। তিনি ডায়াবেটিসের রোগী। সম্প্রতি হৃদরোগে আক্রান্ত হন। একটু সুস্থ হয়ে তিনি চিকিৎসার জন্য আর্থিক সহায়তা চেয়ে আবেদন করেন জেলা প্রশাসকের দপ্তরে। গত ১৩ ফেব্রুয়ারি আবেদন জমা দিয়েছিলাম কিন্তু এখন পর্যন্ত কি হলো জানতে পারিনি। কিন্তু আন্দোলনের কারণে কিছুই জানা যায়নি।
কথা হয় আব্দুর রউফ নামে এক ব্যক্তির সাথে। তিনি জানান, বাড়ি নড়াইলের শিমুলিয়ায়। বছরখানেক আগে তিনি এক খন্ড জমি কেনেন যশোরের অভয়নগরের বনগ্রামে। কিন্তু একটি পর্চা রেজিস্ট্রি দলিল সম্পাদনে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। সেই পর্চা তুলতে আট মাস ধরে ঘুরছেন। ১ মার্চ পর্চা হাতে পাওয়ার কথা ছিল কিন্তু কালেক্টরিতে এসে দেখতে পান ই-সেবা কেন্দ্রে তালা ঝুলছে। এ দরজা সে দরজায় ছুটোছুটি করে জানতে পারেন কর্মচারীরা আন্দোলন করছেন। তাই আজ আর অফিস খুলবে না। তিনি বলেন এখন শূন্য হাতে বাড়ি ফিরে যাচ্ছি।
এ সময় আন্দোলনকারী বেশ কয়েকজন নেতা জানান, বেতন-স্কেলে বৈষম্য সৃষ্টি ও মান মর্যাদার প্রশ্নে আন্দোলন করতে হচ্ছে। তারা জনদুর্ভোগের কথা বিবেচনা করে প্রধানমন্ত্রীর দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেন। তারা আরও বলেন- বিভিন্ন সরকারি অফিসের কর্মচারিদের পদ-পদবিসহ বেতন স্কেল ও মর্যাদা বৃদ্ধি করা হয়েছে। অথচ দেশের সার্বিক উন্নয়নে মাঠ প্রশাসনে যারা ভূমিকা যারা রাখছেন তারাই উপেক্ষিত হয়েছেন।
সংগঠনটির জেলা সাধারণ সম্পাদক (বাকাসস) শরিফুল ইসলাম বলেন, আমাদের কোনো অসৎ উদ্দেশ্য নেই। প্রধানমন্ত্রীর দেয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে গড়িমশির প্রতিবাদে দেশজুড়ে বাকাসস কর্মবিরতি কর্মসূচি পালন করছে। যশোরেও প্রথমদিনের কর্মসূচি পালিত হয়েছে। একই প্রশাসনে কর্মরত তহশিলদার ও সহকারী তহশিলদারদের পদবি পরিবর্তন ও বেতন স্কেল পাঁচ ধাপ ওপরে নির্ধারণ করা হয়েছে কিন্তু আমাদের আশ্বাস দিয়েও বাস্তবায়ন করা হয়নি। ক্ষোভ প্রকাশ করে এই নেতা বলেন, যারা আমাদের অধিনস্থ ছিলেন তাদের এখন স্যার বলার অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে। তিনি মনে করেন যত দ্রুত দাবি মেনে নেয়া হবে জনদুর্ভোগ তত দ্রুতই কমবে। তিনি বলেন-ন্যায্য দাবি আদায়ে প্রয়োজনে কঠোর আন্দোলনে যাবে বাকাসস। তিনি বলেন, কেন্দ্রীয় এই কর্মসূচি কালেক্টরেট, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয় ও ভূমি অফিসে একযোগে পালিত হচ্ছে।