নিজস্ব প্রতিবেদক
যশোর শহরে আলোচিত স্বর্ণকার আল আমিন হোসেন ওরফে ‘পেরেক আল আমিন’ হত্যা মামলায় আলামিন ওরফে ‘ব্ল্যাক আলামিন’ নামে এক যুবককে আটক করেছে র্যাব-৬ যশোর ক্যাম্পের সদস্যরা। শুক্রবার রাতে শহরের মনিহার এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়। পরে তাকে কোতোয়ালি থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। শনিবার তাকে আদালতে সোপর্দ করা হলে বিচারক কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
আটক আলামিন শহরের সিটি কলেজপাড়ার সিরাজুল ইসলামের ছেলে। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, তার বিরুদ্ধে সাতটি মামলা চলমান রয়েছে।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কোতোয়ালি থানার এসআই মিজানুর রহমান জানান, নিহত আল আমিনের সঙ্গে আটক আলামিনের পূর্বশত্রুতা ছিল। হত্যাকাণ্ডের কিছু সময় আগে ‘ব্ল্যাক আলামিন’ পেরেক আল আমিনকে বিভিন্ন ধরনের হুমকি-ধমকি দিয়েছিলেন। প্রাথমিক তদন্তে এমন তথ্য পাওয়া গেছে।
তদন্ত কর্মকর্তা আরও জানান, পূর্বশত্রুতার জেরে কয়েকজনকে সঙ্গে নিয়ে পরিকল্পিতভাবে আল আমিনকে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। আটক আলামিনকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যের আরও তথ্য বেরিয়ে আসতে পারে।
যেভাবে হত্যার শিকার হন আল আমিন :
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, নিহত আল আমিন হোসেন পেশায় স্বর্ণের কারিগর ছিলেন। যশোর শহরের চৌরাস্তা মোড়ের স্বর্ণপট্টিতে তার একটি দোকান রয়েছে।
গত ২০ আগস্ট সকাল সাড়ে ৯টার দিকে প্রতিদিনের মতো বাসা থেকে দোকানের উদ্দেশ্যে বের হন তিনি। বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে দোকানে অবস্থানকালে তার মোবাইল ফোনে একটি কল আসে। ফোনে তাকে জানানো হয়, একজন অসুস্থ হয়ে পড়েছেন এবং তাকে হাসপাতালে নেওয়া প্রয়োজন।
ফোন পাওয়ার পর দোকান থেকে বেরিয়ে যান আল আমিন। এরপর আর দোকানে ফিরে আসেননি তিনি। বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে তার মা আয়শা বেগম মোবাইল ফোনে জানতে পারেন, কে বা কারা আল আমিনকে হত্যা করে বারান্দীপাড়া লিচুতলা এলাকায় ফেলে রেখে গেছে।
খবর পেয়ে আয়শা বেগম লিচুতলা মাদরাসার পেছনে বাবুর মেহগনি বাগানে গিয়ে ছেলের মরদেহ শনাক্ত করেন। পরে খবর পেয়ে কোতোয়ালি থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে।
এ ঘটনায় নিহতের মা, শহরের বারান্দী মাঠপাড়ার মৃত আক্কাস আলীর স্ত্রী আয়শা বেগম বাদী হয়ে বৃহস্পতিবার রাতে কোতোয়ালি থানায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেন।
পুলিশ বলছে, মামলার তদন্তে ইতোমধ্যে গুরুত্বপূর্ণ কিছু তথ্য পাওয়া গেছে। আটক ‘ব্ল্যাক আলামিন’কে জিজ্ঞাসাবাদ এবং রিমান্ডে নিয়ে তথ্য যাচাইয়ের পর হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত অন্যদের পরিচয় ও হত্যার প্রকৃত কারণ আরও স্পষ্ট হবে বলে আশা করছে তদন্ত সংশ্লিষ্টরা।
