ভক্তের দোকানে বসে চা খেলেন প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত
নিজস্ব প্রতিবেদক
যশোর শহরের নাজিরশংকরপুর চাতাল মোড়ের ছোট্ট একটি চায়ের দোকান। টিনের চাল, কয়েকটি বেঞ্চ আর দেয়ালজুড়ে অসংখ্য ছবি-পোস্টার। দোকানটি যেন শুধুই চায়ের দোকান নয়-এটি ছিল একজন সাধারণ কর্মীর হৃদয়ে লালিত রাজনৈতিক ভালোবাসার এক নীরব স্মৃতিস্তম্ভ।
সেই দোকানের মালিক সেকেন্দার আলী। পেশায় চা বিক্রেতা হলেও পরিচয়ে তিনি বিএনপির একজন নিবেদিত প্রাণ কর্মী। আর তার রাজনীতির অনুপ্রেরণার কেন্দ্রবিন্দু বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত।
দীর্ঘদিন ধরে প্রিয় নেতার ছবি দিয়ে সাজিয়ে রেখেছিলেন নিজের ছোট্ট দোকানটি। দেয়ালের প্রতিটি কোণে ছিল অমিতের পোস্টার, ব্যানার ও ছবি, টবে লাগানো ধান গাছে শীষ এসেছে। রাজনৈতিক প্রতিকূল সময়েও সেই ভালোবাসা থেকে একচুলও সরে যাননি তিনি।
সেকেন্দার আলীর বলেন, বিএনপির রাজনীতি করার কারণে অতীতে তাকে নানা ধরনের নির্যাতন ও হয়রানির শিকার হতে হয়েছে। তৎকালীন আওয়ামী লীগের রোষানলে পড়ে হুমকি, মারধর এমনকি জেলও খাটতে হয়েছে তাকে। শুধু তাই নয়, দোকানে অনিন্দ্য ইসলাম অমিতের ছবি টাঙিয়ে রাখার কারণেও তাকে অপমান ও ভয়ভীতি সহ্য করতে হয়েছে।
কিন্তু এত প্রতিকূলতার মাঝেও ভেঙে পড়েননি তিনি। বরং বুকভরা ভালোবাসা নিয়ে বছরের পর বছর একটি স্বপ্ন বাঁচিয়ে রেখেছিলেন-একদিন তার প্রিয় নেতা তার দোকানে এসে বসবেন, তার হাতের বানানো এক কাপ চা খাবেন এবং তার সঙ্গে একটি ছবি তুলবেন।
সাধারণ একজন কর্মীর কাছে সেটিই ছিল জীবনের সবচেয়ে বড় চাওয়া। অবশেষে শুক্রবার (২২ মে) পূরণ হলো সেই স্বপ্ন।
৯ নম্বর ওয়ার্ডের চাতালের মোড় থেকে যশোর-খুলনা মহাসড়ক পর্যন্ত রাস্তা, ড্রেন নির্মাণ ও স্ট্রিট লাইট স্থাপন কাজের ভিত্তিপ্রস্তর উদ্বোধন করতে এলাকায় আসেন প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। অনুষ্ঠানস্থলে যাওয়ার আগেই তিনি জানতে পারেন তার দীর্ঘদিনের ভক্ত সেকেন্দার আলীর কথা।
অনুষ্ঠান শেষে হঠাৎ করেই সবার নজর কাড়েন তিনি। আনুষ্ঠানিকতা আর প্রটোকলের গণ্ডি পেরিয়ে সরাসরি চলে যান সেকেন্দার আলীর সেই ছোট্ট চায়ের দোকানে। সেখানে সাধারণ মানুষের মতো বসে সেকেন্দারের হাতে বানানো চা পান করেন তিনি। পরে বহুদিনের প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে প্রিয় ভক্তের সঙ্গে ছবিও তোলেন।
হঠাৎ এমন মুহূর্তে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন সেকেন্দার আলী। কাঁপা কণ্ঠে তিনি বলেন, “আমি অনেক নির্যাতন সহ্য করেছি। তবুও নেতার ছবি দোকান থেকে নামাইনি। আমার একটাই স্বপ্ন ছিল-একদিন তিনি আমার দোকানে এসে চা খাবেন। আজ আমার সেই স্বপ্ন পূরণ হয়েছে। জীবনে এর চেয়ে বড় আনন্দ আর কিছু হতে পারে না।”
এ সময় উপস্থিত ছিলেন জেলা পরিষদের প্রশাসক দেলোয়ার হোসেন খোকন, জেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাড. সৈয়দ সাবেরুল হক সাবু, যশোর নগর বিএনপির সভাপতি রফিকুল ইসলাম মুল্লুক চাঁদ, সাধারণ সম্পাদক হয়েছেন এহসানুল হক সেতুসহ স্থানীয় নেতাকর্মীরা।
প্রতিমন্ত্রীর এই মানবিক আচরণে মুগ্ধ হয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারাও। তাদের ভাষ্য, রাজনৈতিক ব্যস্ততার মাঝেও একজন সাধারণ কর্মীর অনুভূতির এমন মূল্যায়ন সচরাচর দেখা যায় না। আর এ কারণেই মানুষের হৃদয়ে আলাদা জায়গা করে নিয়েছেন অনিন্দ্য ইসলাম অমিত।
চাতাল মোড়ের সেই ছোট্ট চায়ের দোকান এখন যেন শুধুই একটি দোকান নয়-এটি হয়ে উঠেছে একজন নেতার প্রতি কর্মীর নিঃস্বার্থ ভালোবাসা, ত্যাগ আর স্বপ্নপূরণের এক আবেগঘন প্রতীক।
#
