নিজস্ব প্রতিবেদক
যশোরের ক্রীড়াঙ্গনের পরিচিত মুখ এবং এক সময়ের তুখোড় হকি ও ফুটবল খেলোয়াড় মো. আবুল ওয়াহিদ বাবু আর নেই। দীর্ঘদিন ক্যান্সারে ভুগে বুধবার (১৮ মার্চ) রাতে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৫৭ বছর। তিনি এক পুত্র, এক কন্যা, আত্মীয়-স্বজন ও অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।
মরহুমের বড় ভাই সাংবাদিক আবদুল ওয়াহাব মুকুল জানান, যোহর বাদ যশোর স্টেডিয়ামে জানাজা এবং কারবালা কবরস্থানে দাফন সম্পন্ন হবে।
১৯৬৯ সালের ১ জানুয়ারি যশোর শহরের স্টেডিয়াম পাড়ায় জন্মগ্রহণ করেন আবুল ওয়াহিদ বাবু। তিন ভাই ও চার বোনের মধ্যে তিনি ছিলেন পঞ্চম। শিক্ষাজীবনে এসএসসি পর্যন্ত পড়াশোনা করলেও খেলাধুলাই ছিল তাঁর জীবনের প্রধান অনুরাগ। কর্মজীবনে ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত থাকলেও ক্রীড়াঙ্গনের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক ছিল নিবিড়।
ফুটবল ও হকি—উভয় খেলাতেই তিনি সমান দক্ষতার পরিচয় দেন। স্কুলজীবনে জেলা স্কুলের হয়ে আন্তঃস্কুল ফুটবল প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন দলের সদস্য ছিলেন। পরে যশোর ও খুলনার বিভিন্ন ক্লাবে দীর্ঘদিন খেলেছেন। ফুটবলে তিনি লেফট ব্যাক এবং হকিতে রাইট ব্যাক হিসেবে মাঠে দৃঢ় ও নির্ভরযোগ্য খেলোয়াড় হিসেবে পরিচিত ছিলেন।
খেলোয়াড়ি জীবনে তিনি ঢাকার ফরাশগঞ্জ ক্লাব, বাংলাদেশ আনসার, ওয়ারী ক্লাব ও মেরিনারস ইয়ংস ক্লাবসহ বিভিন্ন স্বনামধন্য দলের হয়ে খেলেছেন এবং ক্রীড়াঙ্গনে নিজের দক্ষতার স্বাক্ষর রেখেছেন।
১৯৮৭-৮৮ সালে যশোর ক্রীড়া ও লেখক সমিতি তাঁকে অনূর্ধ্ব-১৬ বর্ষসেরা খেলোয়াড় হিসেবে সম্মাননা প্রদান করে।
ক্রীড়াঙ্গনে তাঁর মৃত্যুতে যশোরের খেলোয়াড়, সংগঠক ও শুভানুধ্যায়ীদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। অনেকেই তাঁকে একজন প্রাণবন্ত, বিনয়ী ও নিবেদিতপ্রাণ মানুষ হিসেবে স্মরণ করেছেন।
তাঁর মৃত্যুতে স্থানীয় ক্রীড়াঙ্গনে এক অপূরণীয় শূন্যতার সৃষ্টি হয়েছে।
আল্লাহ মরহুমকে জান্নাত নসিব করুন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের এই শোক সহ্য করার শক্তি দান করুন—এমনটাই প্রার্থনা করেছেন তাঁর সহকর্মী ও শুভানুধ্যায়ীরা।
