চুড়ামনকাটি (যশোর) প্রতিনিধি:
নির্যাতনের শিকার সেই তরুণীর বিরুদ্ধে এবার বিভিন্ন মিথ্যাচারে লিপ্ত হয়েছেন ইউপি মেম্বার ও তার ক্যাডারা। ইউপি মেম্বারসহ অন্য আসামিরা জামিনে এসে মামলা মিমাংসার চেষ্টায় ব্যর্থ হয়ে মিথ্যাচার করছে বলে মেয়েটির সদস্যদের অভিযোগ করেছেন। মেম্বার এলাকায় বলে বেড়াচ্ছে টাকা থাকলে এমন মামলায় একদিনও জেলখাটতে হবে না। তার কথাবার্তা শুনে এলাকাবাসী রীতিমত হতবাক হয়েছেন। ইতিমধ্যে আসামি পক্ষের লোকজন মেয়েটিকে খারাপ প্রমাণ করার লক্ষ্যে ফেসবুকে বিভিন্ন কুরুচিপূর্ণ লেখা পোস্ট করছে। এতে করে মেয়েটি ও তার পরিবারের লোকজন বাইরে বের হলে বিভিন্ন লোকজন আজেবাজে কথা বলছে।
এদিকে, এখনো এলাকা জুড়ে সবার মুখে মুখে কিভাবে আটকের আটকের পরই জামিন পেলেন নির্যাতনকারীরা। নির্ভরযোগ্য একটি সূত্রে জানা গেছে, মোটা অংকের অর্থের লেনদেনে তাদের বিরুদ্ধে দুর্বল ধারা প্রয়োগ করে মামলা দেয়া হয়েছে। আসামিরা প্রকাশ্যে ঘোরাফেরা করায় আতংকে রয়েছে ভুক্তভোগী তরুণী ও তার পরিবারের সদস্যরা। মেয়েটির পরিবার ন্যায় বিচার নিয়েও তারা শংকিত।
মামলার বিবরণ মতে, গত ১৫ মার্চ আব্দুলপুর গ্রামের সাহেব আলীর কন্যা ইতি খাতুন (২০) তার পূর্ব পরিচিত বাগডাঙ্গা গ্রামের সরদারপাড়ার সাঈদ হাসানের (২২) সাথে সদরের এনায়েতপুর গ্রামের ওয়াজ মাহফিল শুনতে যায়। মাহফিল শেষে তিনি সাঈদের সাথে বাইসাইকেলযোগে বাড়ির উদ্দেশে ফিরছিলেন। রাত ৭ টার দিকে আব্দুলপুরের রশিদের মুদি দোকানের সামনে পৌঁছালে আসামিরা ইতিকে খারাপ কথা বলে। এর প্রতিবাদ করলে আসামিরা ক্ষুব্ধ হয়ে ইতি ও সাঈদকে ধরে নির্যাতন ও শ্লীলতাহানি ঘটায়। এসময় ইতির ব্যবহৃত মোবাইল ফোন, সোনার চেইন ও নগদ ১ হাজার ৫শ টাকা ছিনিয়ে নেয়। মারপিটের একটি ভিডিও ১৮ মার্চ ফেসবুকে ভাইরাল হয়। ভিডিওতে দেখা যায় স্থানীয় ইউপি মেম্বার আনিচুর রহমান নিজে ইতি খাতুনকে জুতাপেটা ও লাঠি দিয়ে ব্যাপক মারপিট করছে। এ সময় মেয়েটি চিৎকার করলেও তাদের মন গলেনি। এ সময় কয়েকজন যুবক মেয়েটির চুল কাটার চেষ্টা করেন। ভিডিও ভাইরালের পরপরই ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়। ওইদিনই মেয়েটির পিতা ইউপি সদস্য আনিচুর রহমানসহ চারজনকে অভিযুক্ত করে যশোর কোতোয়ালি মডেল থানায় মামলা করেন। এজাহারের পর পুলিশ অভিযুক্তদের আটকে মাঠে নামে। রাতেই আসামিদের আটক করে পরদিন দুপুরে তাদের আদালতে সোপর্দ করে পুলিশ। আলোচিত এই ঘটনার মূলহোতা আনিচুর মেম্বরাসহ সকলে জামিনে মুক্তি পান।
এমন ন্যাক্করজনক ঘটনায় আসামিদের দ্রুত মুক্তি কোনোমতেই এখনো মানতে পারছে না এলাকাবাসী ও মেয়েটির পরিবার। এলাকাবাসী মেম্বার ও তার সহযোগীদের খুঁটির জোর নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। আসামিরা ও তাদের পক্ষের লোকজন বর্তমানে মামলা মিমাংসা করতে মরিয়া। মামলা মিমাংসা করতে মাঠে নেমেছেন কয়েকজন টাউট। সম্প্রতি এলাকার কয়েকজন চিহ্নিত টাউট নিজেরা মেয়েটি নষ্ট এমন ভিডিও তৈরি করে ফেসবুকে পোস্ট করেছে। ভিডিতে যারা সাক্ষাতকার দিয়েছেন তারা সবাই আসামিদের স্বজন। তারা মেয়েটি সর্ম্পকে বিভিন্ন মিথ্যা ও ভিত্তিহীন বক্তব্য দিয়েছেন। যা নিয়ে এলাকাবাসীর মাঝে দেখা দিয়েছে মিশ্রপ্রতিত্রিুয়া। নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন জানান, ঘটনাটি ধামা চাপা দিতেই একটি মহল মেয়েটির সর্ম্পকে এমন আজেবাজে মন্তব্য করছে যা খুবই দুঃখজনক।
সর্বশেষ
- যশোরে শীর্ষ সন্ত্রাসী ‘খোঁড়া কামরুল’ গ্রেপ্তার
- ঝুঁকিপূর্ণ পল্লী বিদ্যুতের খুঁটি, আতঙ্কে বর্মণপাড়ার ১৩ পরিবার
- “ভয় পাবেন না”— হামলার শিকার ছাত্রনেতা রাশেদের পরিবারকে আশ্বাস প্রতিমন্ত্রী অমিতের
- যশোরে অস্ত্রসহ শীর্ষ সন্ত্রাসী অনি আটক, উদ্ধার বিদেশি পিস্তল ও গুলি
- ‘লাব্বাইক’ ধ্বনিতে মুখরিত আরাফাত ময়দান, হজের মূল আনুষ্ঠানিকতায় লাখো মুসল্লি
- জিমের পাশে প্রতিমন্ত্রী অমিত, ফিরতে চান সবুজ মাঠে
- যশোর কেন্দ্রীয় ঈদগাহে প্রথম জামায়াত সকাল সাড়ে ৭টায়
- আগামী কয়েক দিন হজে কী কী করবেন হাজিরা, দেখে নিন একনজরে