এস এস জ্যোতি: যুদ্ধাপরাধ মামলায় সাতক্ষীরার জামায়াত নেতা ও সাবেক এমপি আব্দুল খালেক মন্ডল ও খান রোকনুজ্জামানের (পলাতক) মামলার রায় ঘোষণা করা হবে আজ।
ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর রেজিয়া সুলতানা চমন গতকাল রায়ের দিন ধার্যের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
গত ১১ নভেম্বর প্রসিকিউশন ও আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে বিচারপতি মো. শাহিনুর ইসলামের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল মামলাটি রায়ের অপেক্ষায় রাখে।
রাষ্ট্রপক্ষে এ মামলা পরিচালনা করেন প্রসিকিউটর রেজিয়া সুলতানা চমন। খালেক মন্ডলের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী আব্দুস সোবহান তরফদার। আর পলাতক আসামি খান রোকনুজ্জামানের পক্ষে শুনানি করেন রাষ্ট্র নিয়োজিত আইনজীবী গাজী এম এইচ তামিম।
প্রসিকিউটর রেজিয়া সুলতানা চমন দৈনিক কল্যাণকে বলেন, মামলাটি ২০১৫ সালের। পরে ২০১৮ সালের ৫ মার্চ অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরু করেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। এ মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা হলেন যশোরের কৃতি সন্তান আব্দুর রাজ্জাক খান (বিপিএম, পিপিএম (বার)।
মামলায় চার আসামির মধ্যে আব্দুল্লাহ আল বাকী এবং জহিরুল ইসলাম ওরফে টিক্কা খান নামের দুই আসামি বিচারাধীন অবস্থায় মারা যান। এদের মধ্যে টিক্কা খান কারাগারে অন্তরীণ অবস্থায় ১০৩ বছর বয়সে মারা যান।
২০১৫ সালের ১৬ জুন ভোরে সাতক্ষীরা সদর উপজেলার খলিলনগর মহিলা মাদ্রাসায় নাশকতার উদ্দেশে কয়েকজন সহযোগীকে নিয়ে গোপন বৈঠকের অভিযোগে আব্দুল খালেক মন্ডলকে গ্রেফতার করে পুলিশ। ওই বছরের ২৫ আগস্ট খালেক মন্ডলের বিরুদ্ধে সাতক্ষীরায় দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধের তিনটি মামলার মধ্যে শহীদ মোস্তফা গাজী হত্যা মামলায় তাকে গ্রেফতার দেখান ট্রাইব্যুনাল। এবং অপর আসামি খান রোকনুজ্জামান এখনও পলাতক রয়েছেন।
মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময়ে সাতক্ষীরা এলাকায় হত্যা, ধর্ষণ, অপহরণ, আটকে রেখে নির্যাতনের মত মানবতাবিরোধী অপরাধের ছয়টি অভিযোগ আনা হয় তাদের বিরুদ্ধে। এবং সকল অপরাধ আদালতে সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে।
চূড়ান্ত যুক্তিতর্ক শেষে প্রসিকিউশন দুই আসামির মৃত্যুদন্ড চেয়েছে। আর আসামি পক্ষ অভিযোগ থেকে আসামিদের খালাস চেয়েছে।
মুক্তিযুদ্ধের সময় পাঁচ ব্যক্তিকে গলা কেটে ও বেয়োনেট দিয়ে খুঁচিয়ে হত্যার অভিযোগে সাতক্ষীরা সদর আসনে জামায়াতের সাবেক সাংসদ আব্দুল খালেক মন্ডলসহ নয়জনের বিরুদ্ধে ২০০৯ সালের ২ জুলাই মামলা করেন সদর উপজেলার শিমুলবাড়িয়া গ্রামের নজরুল ইসলাম গাজী। পরে মামলাটি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে পাঠানো হয়।
২০১৫ সালের ৭ অগাস্ট এ মামলার তদন্ত শুরু হয়। প্রায় দেড় বছর পর ২০১৭ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি সাতটি অভিযোগের মধ্যে যাচাই বাছাই শেষে ছয়টি অভিযোগ চূড়ান্ত করে তদন্ত সম্পন্ন করেন ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থার কর্মকর্তা আব্দুর রাজ্জাক খান ।
এ মামলায় ৩৩ জন সাক্ষীর মধ্যে প্রসিকিউশন তদন্তকারী কর্মকর্তাসহ ১৭ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করে।