ভোরের ট্রেনসহ চার দফা দাবি; ডবল লাইন ও আইসিডি স্থাপনের প্রস্তাব
নিজস্ব প্রতিবেদক
যশোরবাসীর দীর্ঘদিনের কাক্সিক্ষত ভোরবেলার ঢাকা-মুখী ট্রেনসহ রেল যোগাযোগের বিভিন্ন দাবি বাস্তবায়নে সরাসরি হস্তক্ষেপ চেয়ে রেলমন্ত্রীকে চিঠি দিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত।
দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের প্রবেশদ্বার হিসেবে পরিচিত যশোরকে কেন্দ্র করে বড় রেল পরিকল্পনা থাকলেও নানা সময় অবহেলা ও বঞ্চনার অভিযোগ রয়েছে। সেই প্রেক্ষাপটে যশোরবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি বাস্তবায়নে রেলপথ মন্ত্রী শেখ রবিউল আলমের কাছে আধা-সরকারি পত্র (ডিও লেটার) দিয়েছেন প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। গত ১৫ এপ্রিল ২০২৬ (০২ বৈশাখ ১৪৩৩) তারিখে দেওয়া ওই চিঠিতে তিনি যশোরের প্রশাসনিক ও কৌশলগত গুরুত্ব তুলে ধরেন।
চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, যশোরে বিমানবন্দর, বিমান বাহিনীর ঘাঁটি, সেনাবাহিনীর পদাতিক ডিভিশন, দেশের প্রধান স্থলবন্দর বেনাপোল, অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র নওয়াপাড়া এবং ফুলের রাজধানী গদখালি অবস্থিত। এত গুরুত্বপূর্ণ জেলা হওয়া সত্ত্বেও রেল যোগাযোগে কাক্সিক্ষত সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন এখানকার মানুষ।
প্রতিমন্ত্রী চিঠিতে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ২০১৬ সালে পদ্মা সেতু রেল সংযোগ প্রকল্প নেওয়া হলেও তৎকালীন সরকারের সময়ে যশোর সদরকে মূল পরিকল্পনার বাইরে রাখা হয়। এতে শহর থেকে প্রায় ২০ কিলোমিটার দূরে পদ্মবিলায় গিয়ে ট্রেন ধরার পরিকল্পনায় জনমনে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়। বর্তমানে বেনাপোল রুটে একটি ট্রেন চালু থাকলেও সময়সূচির অসামঞ্জস্যের কারণে ভোগান্তি কমেনি।
চিঠিতে তিনি যশোরবাসীর পক্ষ থেকে চারটি প্রধান দাবি উত্থাপন করেন-
ভোরবেলা বেনাপোল থেকে যশোর-নড়াইল-ঢাকা এবং দর্শনা থেকে একই রুটে আরও একজোড়া আন্তঃনগর ট্রেন চালু; ঢাকা-নড়াইল-যশোর রুটে অন্তত একজোড়া লোকাল ট্রেন সংযোজন; দর্শনা থেকে খুলনা পর্যন্ত ডবল লাইন রেলপথ নির্মাণ এবং যশোরে একটি অভ্যন্তরীণ কন্টেইনার ডিপো (আইসিডি) স্থাপন।
প্রতিমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, এসব উদ্যোগ বাস্তবায়ন হলে বেনাপোল, নওয়াপাড়া, মোবারকগঞ্জ, কোটচাঁদপুর ও দর্শনা অঞ্চলের বিপুল যাত্রী রেলসেবায় যুক্ত হবে, যা সরকারের রাজস্ব বৃদ্ধিতেও ভূমিকা রাখবে।
যশোরবাসীর দীর্ঘদিনের বঞ্চনা দূর করে রেল যোগাযোগে নতুন সম্ভাবনা তৈরির এই উদ্যোগকে স্থানীয় সচেতন মহল ও সাধারণ মানুষ ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন।
