আব্দুর রউফ
যশোরে খুচরা ও পাইকারি পর্যায়ে এলপি (লিকুইফাইড পেট্রোলিয়াম) গ্যাসের সিলিন্ডার সরকারি নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। ডিলার ও খুচরা ব্যবসায়ীদের সিন্ডিকেটের কারণে প্রতি সিলিন্ডারে তিনশ থেকে সাড়ে তিনশ টাকা পর্যন্ত অতিরিক্ত আদায় করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী ক্রেতারা।
সরেজমিন অনুসন্ধানে দেখা যায়, শহরের ঘোপ নওয়াপাড়া রোডের মামুন ট্রেডার্সে ওমেরা ও যমুনা ব্র্যান্ডের গ্যাসের দাম জানতে চাইলে দোকান মালিক জানান, ওমেরা সিলিন্ডার ১ হাজার ৭০০ টাকা এবং যমুনা সিলিন্ডার সাড়ে ১ হাজার ৭০০ টাকায় বিক্রি করা হচ্ছে। অথচ ১২ কেজি এলপি গ্যাস সিলিন্ডারের সরকারি নির্ধারিত মূল্য ১ হাজার ৩৫৬ টাকা। সেই হিসাবে প্রতি সিলিন্ডারে প্রায় ৩৪৪ টাকা বেশি নেওয়া হচ্ছে।
খুচরা ব্যবসায়ীরা দাবি করছেন, ডিলারদের কাছ থেকে বেশি দামে কিনতে হওয়ায় তারাও বাধ্য হয়ে বেশি দামে বিক্রি করছেন। তাদের অভিযোগ, ডিলাররা গ্যাস সংকটের অজুহাত দেখিয়ে বেশি দামে সরবরাহ করছেন।
এ বিষয়ে একাধিক ডিলার ও ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে। যশোর শহরের পালবাড়ি এলাকার মেসার্স সোনালী ট্রেডার্সকে কেন্দ্র করেই গ্যাসের দাম বাড়ছে বলে অভিযোগ স্থানীয় ব্যবসায়ীদের। প্রতিষ্ঠানটির স্বত্বাধিকারী মো. ফসিয়ার রহমান নিজেকে পিএলপিজি, চেস্টা, ডিএম ও বেক্সিমকোসহ কয়েকটি কোম্পানির অনুমোদিত ডিলার বলে দাবি করেন। তিনি পাইকারি ও খুচরা উভয় পর্যায়েই গ্যাস বিক্রি করেন।
অভিযোগ রয়েছে, সোনালী ট্রেডার্স থেকে পাইকারি পর্যায়ে বিভিন্ন খুচরা ব্যবসায়ীদের কাছে সিলিন্ডার প্রতি ১ হাজার ৪০০ থেকে ১ হাজার ৪৫০ টাকায় গ্যাস বিক্রি করা হচ্ছে। ফলে খুচরা পর্যায়ে ব্যবসায়ীরা ১ হাজার ৭০০ থেকে সাড়ে ১ হাজার ৭০০ টাকায় বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন।
পালবাড়ি কবরস্থান রোডের অরেন এন্টারপ্রাইজসহ আরও কয়েকটি দোকানেও একই অবস্থা দেখা গেছে। খুচরা ব্যবসায়ীরা বলছেন, ডিলাররা বেশি দামে গ্যাস বিক্রি করছেন। তাই আমরাও বেশি দামে বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছি।
ঢাকা রোডের বারান্দীপাড়া এলাকার আকাশ ট্রেডিং সূত্রে জানা গেছে, আগে তারা সিলিন্ডার প্রতি ১ হাজার ৪৭০ টাকায় গ্যাস কিনতেন। বর্তমানে সেই দাম বেড়ে ১ হাজার ৬৮০ থেকে ১ হাজার ৭০০ টাকায় পৌঁছেছে। এছাড়া ফিরোজ এন্টারপ্রাইজ, আকিজ ফুয়েল এবং বসুন্ধরা গ্রুপের ভেরিয়েন্ট এন্টারপ্রাইজেও ১ হাজার ৫০০ থেকে ১ হাজার ৫৫০ টাকায় গ্যাস বিক্রির অভিযোগ রয়েছে।
ক্রেতাদের অভিযোগ, অনেক দোকানে সরকারি মূল্য তালিকা ১ হাজার ৩৫৬ টাকা উল্লেখ করে টানানো থাকলেও বাস্তবে বেশি দামে গ্যাস বিক্রি করা হচ্ছে।
ভুক্তভোগীদের দাবি, বাজারে গ্যাসের সরবরাহ স্বাভাবিক থাকলেও অতিরিক্ত মুনাফার আশায় ডিলারদের একটি সিন্ডিকেট কৃত্রিম সংকট তৈরি করে বেশি দামে গ্যাস বিক্রি করছে।
এদিকে সোনালী ট্রেডার্সের বিরুদ্ধে এর আগেও ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। প্রায় দুই মাস আগে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের ভ্রাম্যমাণ আদালত প্রতিষ্ঠানটির গোডাউনে অভিযান চালিয়ে অবৈধভাবে গ্যাস মজুদ ও অতিরিক্ত দামে বিক্রির দায়ে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেছিলেন।
এদিকে ভোক্তাদের দাবি, এলপি গ্যাসের বাজারে অনিয়ম ও সিন্ডিকেট ভাঙতে প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।
