নিজস্ব প্রতিবেদক
যুদ্ধ-বিধ্বস্ত বিশ্বে শান্তির প্রত্যাশা আর দেশ-জাতির কল্যাণ কামনায় যশোরে যথাযোগ্য মর্যাদা ও ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে উদযাপিত হয়েছে পবিত্র ঈদুল ফিতর। শনিবার (২১ মার্চ) সকালে যশোর কেন্দ্রীয় ঈদগাহ ময়দানে ঈদের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হয়। সকাল ৮টায় প্রথম জামাত এবং সকাল ৯টায় দ্বিতীয় জামাত আদায় করা হয়।
সকাল থেকেই বৃষ্টি ও প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে জেলার অনেক স্থানে ঈদগাহের পরিবর্তে স্থানীয় মসজিদগুলোতে ঈদের নামাজ অনুষ্ঠিত হলেও, আবহাওয়ার বাধা উপেক্ষা করে বিপুলসংখ্যক মুসল্লি যশোর কেন্দ্রীয় ঈদগাহ ময়দানে সমবেত হন। নামাজ শেষে মুসলিম উম্মাহর শান্তি, দেশের সমৃদ্ধি এবং বিশ্বমানবতার কল্যাণ কামনায় বিশেষ মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। পরে মুসল্লিরা একে অপরের সঙ্গে কোলাকুলি ও ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।
ঈদের নামাজে অংশ নেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। নামাজের আগে সংক্ষিপ্ত শুভেচ্ছা বক্তব্যে তিনি বলেন, বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে অর্থনৈতিক সংকট তৈরি হয়েছে, যার প্রভাব বাংলাদেশেও পড়ছে। এই সংকট মোকাবেলায় সরকার কাজ করে যাচ্ছে এবং এ ক্ষেত্রে জনগণের সহযোগিতা অত্যন্ত জরুরি। তিনি সবাইকে মিতব্যয়ী হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, যুদ্ধ শেষ হলেও এর প্রভাব দীর্ঘদিন বিশ্বব্যাপী অনুভূত হবে। তাই সরকার যেমন প্রস্তুতি নিচ্ছে, তেমনি জনগণকেও সচেতন ও প্রস্তুত থাকতে হবে।
এ সময় শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন যশোরের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আশেক হাসান। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন জেলা পুলিশ সুপার সৈয়দ রফিকুল ইসলাম, জেলা পরিষদের প্রশাসক দেলোয়ার হোসেন খোকন, স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক ও যশোর পৌরসভার প্রশাসক রফিকুল হাসান, জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী এস এম শাহীনসহ স্থানীয় প্রশাসন ও গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
দীর্ঘ এক মাস সিয়াম সাধনার পর এমন এক সময়ে পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপিত হলো, যখন মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে যুদ্ধ পরিস্থিতি বিরাজ করছে। বৈশ্বিক এই অস্থিরতার প্রভাব বাংলাদেশসহ বিশ্বের বহু দেশেই অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে। তবুও ঈদ এসেছে আনন্দ, সম্প্রীতি ও ভ্রাতৃত্বের বার্তা নিয়ে।
যশোরের ঘরে ঘরে ঈদকে ঘিরে ছিল উৎসবের আমেজ। সেমাই, পোলাও, চিনি আর নতুন পোশাকের ঘ্রাণে মুখর হয়ে ওঠে চারপাশ। চাঁদ দেখার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই শুরু হয় আনন্দের আবহ। শিশু-কিশোরদের উচ্ছ্বাস, পরিবারের ব্যস্ততা আর সবার মধ্যে শুভেচ্ছা বিনিময়ে ঈদের আনন্দ ছড়িয়ে পড়ে সর্বত্র।
প্রতিকূল আবহাওয়া, বৈশ্বিক সংকট ও যুদ্ধের আশঙ্কার মধ্যেও যশোরে পবিত্র ঈদুল ফিতরের উদযাপন যেন একটাই বার্তা দিয়েছে—হিংসা-বিদ্বেষ নয়, শান্তি, সম্প্রীতি ও মানবিক বন্ধনই হোক বিশ্বমানবতার পথচলার ভিত্তি।
