এহসান-উদ-দৌলা মিথুন
আজ ৮ এপ্রিল। আমাদের পরিবারের জন্য, আমাদের পত্রিকার জন্য, আর যশোরের সাংবাদিকতা অঙ্গনের জন্য একটি বিশেষ দিন। আজ ৭৫ বছরে পা রাখলেন আমার বাবা একরাম-উদ-দ্দৌলা।
এই দিনটি কেবল একটি জন্মদিন নয়, এটি একটি সংগ্রামের, একটি অবিচল সাহসিকতার মাইলফলক।
আমি তাকে শুধু বাবা বলে চিনি। কিন্তু সমাজ তাকে চেনে একজন নির্ভীক সাংবাদিক হিসেবে, একজন সম্পাদক হিসেবে, একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে।
আমার কাছে তিনি সেই মানুষ, যিনি প্রতিকূলতার সামনে কখনো মাথা নত করেননি।
দারিদ্র্য, সংগ্রাম, অনিশ্চয়তা-সবকিছুকে সঙ্গী করেই তার বেড়ে ওঠা। ছোটবেলা থেকেই জীবন তাকে সহজ কিছু দেয়নি। কিন্তু তিনি থেমে থাকেননি। শিক্ষা অর্জন করেছেন লড়াই করে, আর সাংবাদিকতায় প্রবেশ করেছেন নিজের মেধা আর সাহসের জোরে।
সাপ্তাহিক ‘গণদাবি’ থেকে শুরু হওয়া তার কলমযুদ্ধ, ধীরে ধীরে ছড়িয়ে পড়ে দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পত্রিকায়।
ঢাকা থেকে যশোর-আবার যশোর থেকে ঢাকা-এই পথচলায় তিনি বারবার প্রমাণ করেছেন, সাংবাদিকতা তার পেশা নয়, তার রক্তে মিশে থাকা এক দায়বদ্ধতা।
১৯৮৫ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি। একটি স্বপ্নের জন্ম-দৈনিক কল্যাণ।
আমি খুব কাছ থেকে দেখেছি, একটি পত্রিকা দাঁড় করাতে একজন মানুষ কতটা ত্যাগ স্বীকার করতে পারে। অভাব, অনিশ্চয়তা, চাপ-সবকিছু সয়ে তিনি এই পত্রিকাকে শুধু টিকিয়েই রাখেননি, সম্মানের জায়গায় প্রতিষ্ঠা করেছেন।
আজ যখন আমি এই পত্রিকার দায়িত্বে, তখন বুঝতে পারি-এটি শুধু একটি প্রতিষ্ঠান নয়, এটি বাবার জীবনের সমগ্র অর্জন, তার ঘাম, তার অশ্রু, তার অবিচল বিশ্বাসের ফসল।
তিনি শুধু সাংবাদিক নন-তিনি সমাজের একজন নির্মাতা।
প্রেসক্লাব, সাংবাদিক ইউনিয়ন, সাহিত্য-সংস্কৃতি সংগঠন-যেখানে গেছেন, সেখানে রেখেছেন নিজের ছাপ।
আর সবচেয়ে বড় কথা-তিনি একজন মুক্তিযোদ্ধা।
দেশের স্বাধীনতার জন্য জীবন বাজি রেখে লড়েছেন। সেই চেতনা আজও তার মধ্যে জীবন্ত।
বাবা, আপনি কখনো আমাদের জন্য বড় বড় কথা বলেননি। কিন্তু আপনার জীবনটাই আমাদের সবচেয়ে বড় শিক্ষা।
আপনি শিখিয়েছেন-সংগ্রামকে ভয় পেতে নেই, সত্যকে ছাড়তে নেই, আর নিজের পথ থেকে সরে যেতে নেই।
আজ আপনার ৭৫তম জন্মদিনে আমি শুধু একটি কথাই বলতে চাই-আপনি আমাদের গর্ব, আপনি আমাদের শক্তি, আপনি আমাদের পথপ্রদর্শক।
আপনার মতো হতে পারবো কিনা জানি না, কিন্তু আপনার দেখানো পথেই হাঁটার চেষ্টা করবো-এই প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি।
আল্লাহ আপনাকে সুস্থ রাখুন, দীর্ঘায়ু দান করুন। আপনার ছায়া যেন আমাদের ওপর এভাবেই থাকে, সবসময়।
শুভ জন্মদিন, বাবা।
আপনি বেঁচে থাকুন-আমাদের ভালোবাসায়, আমাদের গর্বে, আমাদের প্রতিটি শ্বাসে।
লেখক : ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক
দৈনিক কল্যাণ।
