মো. ছোলজার রহমান: প্রাচীনকাল থেকেই ভূমির স্বাভাবিক ব্যবহার হিসেবে কৃষি,বসতি,বাগান,পুকুর এবং বসতি ও কৃষির সাথে সম্পর্কিত কার্যাবলীকেই দেখা যায়। মানুষের চিন্তা-ভাবনা, জ্ঞান ও প্রযুক্তিগত উৎকর্ষতা বিকাশের সাথে সাথে ভূমি ব্যবহারে নতুন নতুন মাত্রা ও বৈচিত্র শুরু হয়। বসতি সংশ্লিষ্ট বহুবিধ ব্যহারের মধ্যে শিল্প ও সংশ্লিষ্ট স্থাপনা, বাণিজ্যিক স্থাপনা ও ব্যবহার, পরিবহন ও যাতায়াত সংশ্লিষ্ট অবকাঠামো এবং মেরামত কারখানা, সর্বজনীন ব্যবহার হিসেবে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান,ধর্মীয় উপাসনা ও উৎসবক্ষেত্র, ঈদগাহ,কবরস্থান ও শ্মশান, চিত্ত বিনোদন হিসেবে পার্ক, সিনেমা হল, মঞ্চ, খেলার মাঠ, প্লানেটরিয়াম, নৌ ভ্রমণের জলাশয়, পিকনিক স্পট, দর্শনীয়-ঐতিহ্যময়-সংরক্ষিত স্থান, ইকো পার্ক, সাফারি পার্ক, প্রতœতাত্বিক নিদর্শন, গণশৌচাগার, জলাশয়, বনায়ন, স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা সংক্রান্ত হাসপাতাল, ক্লিনিক, ডিসপেন্সারি, ফার্মেসী, ডায়াগনস্টিক সেন্টার, ফিজিওথেরাপি সেন্টার, পশু হাসপাতাল, মৎস্য ও পশুচাষ ও পালন সংক্রান্ত হ্যাচারি, ঘের, পুকুর,খামার, বাওড়, পানীয় ও গৃহস্থালী জলের জন্য সংরক্ষিত জলাশয় সাধারণভাবে বেশ পরিচিত হলেও একটি অঞ্চলের প্রযুক্তিগত জ্ঞান এবং বিভিন্ন অঞ্চলের মানুষের আগমন হেতু তাদের নানাবিধ চাহিদা মেটানোর তাগিদে এবং আয়বৃদ্ধি ও জীবিকা নির্বাহের প্রয়োজনে সময়, স্থান, অবস্থান, পরিবেশিক অবস্থা, সম্পদের প্রাপ্যতা, মানুষের সংস্কৃতি ও চাহিদা ইত্যাদির বৈচিত্র্যের কারণে ভূমি ব্যবহারেও পরিবর্তন হতে থাকে। বাংলাদেশে বডি ম্যাসাজ এখনও সামাজিকভাবে ভালভাবে নেয়ার মত স্বীকৃত পেশার মর্যাদা প্রতিষ্ঠিত করতে পারেনি-যদিও বিচ্ছিন্নভাবে ম্যাসাজের কর্মকান্ড অল্প অল্প সংঘটিত হচ্ছে। পর্যটন ব্যাপক মাত্রায় বিকাশ লাভ করলে রাষ্ট্র ও স্থানীয় জনগন পর্যটকদের চাহিদা মিটিয়ে আয়ের মাধ্যমে লাভবান হওয়ার জন্য অনেক ধরণের কাজকে পেশা হিসেবে বেছে নেবে যার কোন কোনটি হয়ত সে অঞ্চলের সংস্কৃতিতে অপ্রচলিত ও নিন্দনীয়। পদ্মা সেতু দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের কার্যকলাপে গতিশীলতা ও বৈচিত্রতা আনবে এবং বৈচিত্রময় পেশার প্রয়োজনে উৎপাদনে ও ভূমি ব্যবহারে পরিবর্তন আসতে থাকবে। প্রথমত দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের গ্রামীণ সংস্কৃতির ধারা ও কৃষিভিত্তিক কর্মকান্ডের সংস্কৃতি দ্রুত শিল্প ও বাণিজ্যিক দিকে পরিবর্তিত হতে থাকবে এবং ভূমি ব্যবহারও শিল্প ও বাণিজ্যিক হতে থাকবে। সুন্দরবনের বনজ সম্পদসমূহের কোন অংশবিশেষকে হস্তশিল্প ও প্রযুক্তির মাধ্যমে আকর্ষনীয় করে কোন উৎপাদিত পণ্য যদি অন্য অঞ্চল থেকে আগত জনগণকে আকৃষ্ট করতে পারে তবে প্রস্তুতকারি শিল্পের প্রয়োজনে ভূমি ব্যবহারও পরিবর্তিত হতে থাকবে। সার্বিকভাবে পদ্মা সেতুর প্রভাবে অঞ্চলের কৃষিতে ভূমির ব্যবহার কমে যাবে, অলস-পতিত- চাষযোগ্য পতিত- সাময়িক পতিত জমি থাকবে না, সবই ব্যবহারের আওতায় চলে আসবে। এক ফসলী জমি বা অল্প ব্যবহারের জমিসমূহ ঘন ঘন ও বেশি বেশি ব্যবহারের আওতায় পরিবর্তিত হবে। অপ্রচলিত ও নতুন পণ্য উৎপাদনের জন্য কম মূল্যের জমিসমূহের মূল্য বৃদ্ধি পেতে থাকবে এবং রাস্তা থেকে দূরে ফসলী ও বিলের জমিও ক্রমাগত ভরাট হয়ে ভূমির শ্রেণি পরিবর্তন ও ব্যবহারে পরিবর্তন আসতে থাকবে। ফসলী জমি, জলাশয়, বিল, ডোবা, নীচু জমির পরিমাণ ব্যাপকভাবে কমে গিয়ে দ্রুত ও বেশি আয়ের শিল্প ও বাণিজ্যিক ব্যবহারে রুপান্তরিত হবে। (সহযোগী অধ্যাপক, ভূগোল ও পরিবেশ, সরকারি মাইকেল মধুসূদন কলেজ)