অস্ত্র-গুলি উদ্ধার
নিজস্ব প্রতিবেদক
যশোরের মনিরামপুরের আলোচিত রানা প্রতাপ বৈরাগী হত্যাকাণ্ডের মূল স্যুটার মাহামুদ হাসান হৃদয় ও শামীম হোসেনকে গ্রেফতার করেছে জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। এসময় হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত অস্ত্র-গুলি উদ্ধার করা হয়।
শুক্রবার বেলা ৩টায় পুলিশ সুপার কার্যালয়ে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে যশোরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম এন্ড অপস্) আবুল বাসার সাংবাদিকদের এ তথ্য জানিয়েছেন।
মাহামুদ হাসান হৃদয় অভয়নগর উপজেলার বারান্দী গ্রামের হাবিবুর রহমানের ছেলে।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবুল বাসার জানিয়েছেন, চলতি বছরের ৫ জানুয়ারি সন্ধ্যা ৬টার দিকে মনিরামপুর উপজেলার কপালিয়া বাজারে আলম সরদারের দোতলা ভবন ও হাবিবের মার্কেটের একটি বিউটি পার্লারের সামনে অবস্থান করছিলেন রানা প্রতাপ বৈরাগী। এসময় পূর্ব থেকে পরিকল্পিতভাবে রানাকে গুলি করে হত্যা করা হয়। পরে তার মৃত্যু নিশ্চিত করতে গলা কাটা হয়। তিনি বিপ্লবী কমিউনিস্ট পার্টির সক্রিয় সদস্য হিসেবে পরিচিত ছিলেন। ঘটনার পর মামলা রুজু হলে যশোর ডিবির এসআই কামরুজ্জামান তদন্তভার গ্রহণ করেন। সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ, তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা ও বিভিন্ন পুলিশি কৌশল প্রয়োগ করে প্রথমে সাদ্দাম হোসেন নামে এক আসামিকে বাগেরহাট জেলা থেকে গ্রেফতার করে। এরপরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে গত ১৭ ফেব্রুয়ারি নড়াইল থেকে রাজীব মোল্লা নামে আরো একজনকে গ্রেফতার করা হয়। তার কাছ থেকে হত্যায় ব্যবহৃত একটি চাকু ও যাতায়াতে ব্যবহৃত একটি পালসার মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়েছে। পরে রাজীব আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।
পুলিশ জানায়, রানা প্রতাপ বিপ্লবী কমিউনিস্ট পার্টির সদস্য হলেও পূর্ব বাংলা কমিউনিস্ট পার্টির নেতা শিপন আহমেদ মুন্নার নাম ব্যবহার করে বিভিন্ন ঘের মালিক ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে চাঁদাবাজি করতেন। একাধিকবার সতর্ক করা হলেও তিনি তা উপেক্ষা করেন। এরই জের ধরে তাকে হত্যার পরিকল্পনা করা হয়। পরিকল্পনা অনুযায়ী ঘটনার দিন রানা প্রতাপের অবস্থান নিশ্চিত করতে হৃদয় কপালিয়া বাজারে শামীম ও সেলিমকে পাঠান। অবস্থান নিশ্চিত হওয়ার পর হৃদয়, রাজীব মোল্লা ও সূর্য একটি পালসার মোটরসাইকেলে ঘটনাস্থলে গিয়ে রানার সঙ্গে কথা বলেন। একপর্যায়ে তাকে গুলি করা হয়। পরে মৃত্যু নিশ্চিত করতে গলা কাটা হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ। এ ঘটনায় মূল পরিকল্পনাকারী শিপন আহমেদ মুন্না এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িত সূর্যকে গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এ পর্যন্ত চারজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
