নিজস্ব প্রতিবেদক
যথাযোগ্য মর্যাদা ও ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে যশোরে পালিত হচ্ছে মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস। একুশের প্রথম প্রহরে শহরের যশোর সরকারি এমএম কলেজস্থ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে ভাষা আন্দোলনের বীর শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়।
বৃহস্পতিবার (২০ ফেব্রুয়ারি) রাত ১২টা ১ মিনিটে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী ,যশোর-৩ সদর আসনের সংসদ সদস্য এবং বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির ভারপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক অনিন্দ্য ইসলাম অমিত-শ্রদ্ধা নিবেদনের সূচনা করেন।
এরপর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আশেক হাসান । পরে পুলিশ সুপার সৈয়দ রফিকুল ইসলাম শহীদ বেদিতে ফুল দিয়ে সম্মান জানান।
এরপর বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী এবং বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক অনিন্দ্য ইসলাম অমিত-এর নেতৃত্বে জেলা বিএনপির নেতাকর্মীরা পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন বিএনপির কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যাপক নার্গিস বেগম, যশোর জেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট সাবেরুল হক সাবু এবং সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন খোকন। জেলা বিএনপি ও অঙ্গ-সংগঠনের বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী এ সময় উপস্থিত ছিলেন।
সরকারি এমএম কলেজ, শিক্ষাবোর্ড, সিভিল সার্জন কার্যালয়, জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, প্রেসক্লাব, সাংবাদিক ইউনিয়ন যশোর, যশোর সাংবাদিক ইউনিয়ন, জেলা পরিষদ, জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতর, গণপূর্ত বিভাগ, পিবিআই, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও পেশাজীবী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ পর্যায়ক্রমে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
পুষ্পস্তবক অর্পণ শেষে ভাষা শহীদদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করে নীরবতা পালন করা হয়। সংবাদকর্মীদের সঙ্গে কথা বলে অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, “বায়ান্নর ভাষা আন্দোলন আমাদের জাতীয় জীবনের এক অবিস্মরণীয় অধ্যায়। শহীদদের আত্মত্যাগ আমাদের অন্যায়ের বিরুদ্ধে লড়াই করার প্রেরণা জোগায়।” তিনি আরও বলেন, দেশের গণতান্ত্রিক অধিকার ও ভোটাধিকার পুনরুদ্ধারের সংগ্রামে একুশের চেতনাকে সমুন্নত রাখতে হবে।
একুশের প্রথম প্রহরেই কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে জনতার ঢল নামে। প্রশাসনের কঠোর নিরাপত্তা বেষ্টনীর মধ্য দিয়ে সর্বস্তরের মানুষ শহীদ বেদিতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করেন।
উল্লেখ্য, ২০১৮ সালের পর এই প্রথম এমএম কলেজের ঐতিহাসিক শহীদ মিনারে সর্বস্তরের মানুষ একযোগে শ্রদ্ধা নিবেদন করছেন। গত কয়েক বছর পুরাতন কসবায় সংকুচিত পরিসরে নির্মিত শহীদ মিনারে কর্মসূচি পালিত হলেও বিএনপিসহ কয়েকটি রাজনৈতিক দল এমএম কলেজ ক্যাম্পাসের শহীদ মিনারেই নিয়মিতভাবে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে আসছিল।
