নিজস্ব প্রতিবেদক: যশোরে ব্যবসার প্রলোভন দেখিয়ে ওমর আলী নামে এক ব্যক্তিকে আটকে মারধর ও মুক্তিপণ দাবির অভিযোগে ৩ জনকে আটক করেছে ডিবি পুলিশ। ২৮ ফেব্রুয়ারি রাতে যশোরের উপশহরস্থ ডি-ব্লকের নির্মাণাধীন একটি ভবন থেকে তাদেরকে আটক করা হয়। এ সময় ওমর আলীকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করে ডিবি পুলিশ।
আটকরা হলো, ঢাকার মিরপুর পল্লবীর ডি-ব্লক এলাকার আরিফুল ইসলাম (৪৬), যশোর শহরের পূর্ব বারান্দীপাড়ার হাসানুজ্জামান রুমি (৩২) ও শংকরপুর গোলপাতা মসজিদ এলাকার আব্দুল্লাহ আল মামুন (২৫)। ভুক্তভোগী ওমর আলী চট্টগ্রামের স্বন্দীপের হারামিয়া এলাকার বাসিন্দা।
ডিবি পুলিশের ওসি রুপন কুমার সরকার জানান, আটক আরিফুল ইসলাম একজন প্রতারক। সে ওমর আলীকে তক্ষক ব্যবসার প্রলোভন দেখিয়ে গত সোমবার সাতক্ষীরার ভোমরা সীমান্তে নিয়ে যায়। পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী সেখান থেকে আরিফুল ইসলামের সাথে যোগ দেন রিয়াদ উদ্দিন তুহিন ও হাসানুজ্জামান রুমি নামে আরও ২ জন। কিন্তু তাদের আচরণ দেখে ওমর আলীর সন্দেহ হয়। তিনি সীমান্ত এলাকায় যেতে অপরাগতা প্রকাশ করেন। এরপর তারা ওমর আলীকে সেখান থেকে যশোরে নিয়ে আসে। উপশহরস্থ ডি-ব্লকে রিয়াদ উদ্দিন তুহিনের নির্মাণাধীন ৬ তলা ভবনের ৫ তলায় আটকে রেখে মারধর শুরু করে। তার কান্নাকাটি শুনে আশেপাশের লোকজন এগিয়ে এলে প্রতারকেরা তাকে রডচোর আখ্যায়িত করে। রাত সাড়ে ৭টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত তাকে সেখানে আটকে রেখে প্রতারকেরা তার স্ত্রীর কাছে ৪ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করেন। এছাড়া তারা ওমর আলীর মোবাইল ফোনের বিকাশ অ্যাকাউন্টে থাকা ৪৮ হাজার ৫০০ টাকা উত্তোলন করে নেন। সেই সাথে আরও টাকা দাবি করতে থাকেন। এরই মধ্যে ওমর আলীর স্ত্রী শামসুন্নাহার সুমী ঢাকার শাহআলী থানায় এ বিষয়ে মৌখিক ভাবে অভিযোগ করেন। পাশাপাশি ওমর আলীর স্বজনেরা যশোরের পুলিশ সুপারকে বিষয়টি অবহিত করেন। কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে এ খবর পেয়ে ডিবি পুলিশের একটি টিম ওই দিন রাত সাড়ে ১০টার দিকে উপশহরস্থ ডি-ব্লকে রিয়াদ উদ্দিন তুহিনের নির্মাণাধীন ভবনের ৫ তলায় অভিযান চালিয়ে ওমর আলীকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করে। এ সময় সেখান থেকে প্রতারক আরিফুল ইসলামসহ ৩ জনকে আটক করা হয়। তবে তার ২ সহযোগী রিয়াদ উদ্দিন তুহিন ও হাসানুজ্জামান রুমিকে পাওয়া যায়নি।
তিনি জানান, ঘটনাস্থল থেকে দড়ি, গামছা, লাঠি ও পাশের জনৈক হযরতের বিকাশের দোকান থেকে প্রতারকদের রেখে দেয়া ১৪ হাজার টাকা জব্দ করা হয়। এ ঘটনায় ১ মার্চ মঙ্গলবার ওমর ফারুক কোতোয়ালি থানায় মামলা করেন। মামলায় আটক ও পলাতকসহ ৫ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত নামা আরো ২/৩ জনকে আসামি করা হয়।