নিজস্ব প্রতিবেদক
পরস্পর যোগসাজসে ভারত থেকে অবৈধ ভাবে বৈদেশিক মুদ্রা (ডলার) বাংলাদেশে আনার সহায়তা করার অপরাধে যশোর কোতোয়ালি থানায় মামলা হয়েছে। ঢাকা সিআইডি (অর্গানাইজড ক্রাইম, ফাইন্যান্সিয়াল ক্রাইম) পুলিশের এস আই মেহেদি হাসান শনিবার (১৭ জুন) মামলা করেন। মামলায় ১১ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত নামা আরো ৩/৪ জনকে আসামি করা হয়।
আসামিরা হলো কুমিল্লা জেলার নলচক গ্রামের পীরসাহেবের বাড়ি আব্দুল ছত্তারের দুই ছেলে রুহুল আমিন (২৫) রেজাউল করিম (৩৭) যশোরের শার্শার পুটখালি গ্রামের সাহেব আলীর ছেলে রমাজান আলী (২৯) একই গ্রামের মৃত বুদ সরদারের দুই ছেলে ওলিয়ার রহমান (৩৪), নাসির উদ্দিন (৪০), কুমিল্লার নৈয়াইর গ্রামের সিরাজ ব্যাপারির ছেলে শাহজালাল (৩৫), চাঁদপুর জেলার উত্তর মতলেবের বাগান বাড়ি খাগুরিয়া মিয়াজি বাড়ি রশিদ মিয়াজির ছেলে আরিফ মিয়াজি (৩৯), মাদারিপুর জেলার বলশা গ্রামের কামালের ছেলে আবু হায়াত জনি (২৮), নারায়নগঞ্জ জেলার মিজমিজি পূর্বপাড়ার আলিউল্লাহ বেপারির ছেলে রবিউল আলম রাব্বি (২৯), যশোরের শার্শা দূর্গাপুর উত্তর পাড়ার আব্দুল জব্বারের ছেলে জাহিদুল ইসলাম (৪৫) ও একই উপজেলার পুটখালি পূর্বপাড়ার আতিয়ার রহমানের ছেলে নাজমুল হোসেন (৩৫)।
সিআইড পুলিশের এস আই মেহেদি হাসান, মামলায় উল্লেখ করেছেন, যশোর সিআইডির পুলিশের পরিদর্শক কাজি বাবুল হোসেন ২০২২ সালের ১ জুন দায়ের করা বিশেষ ক্ষমতা আইনের ১৯৭৪ সালের ২৫বি/২৫বি মামলাটির তদন্ত কর্মকর্তা। মামলা তদন্তকালে বিভিন্ন সোর্স মারফত মামলা দায়েরকারী কর্তৃপক্ষের সংবাদ সম্মেলনসহ বিভিন্ন অনলাইন পত্রিকার মাধ্যমে জানতে মামলার জব্দকৃত সোনা চোরা চালানের সাথে রুহুল আমিন, রেজাউল করিম, রমজান, ওলিয়ার রহমান, নাসির উদ্দিনরা জড়িত। তারাই প্রকৃত পক্ষে অবৈধ স্বর্নের মালিক। একই সাথে আর্ন্তজাতিক সোনা চোরাচালানের সাথে জড়িত। এরা দুবাই থেকে বাহকের মাধ্যমে ঢাকা চট্রগ্রাম বিমান বন্দর ব্যবহার করে অবৈধ ভাবে স্বর্নের বার বাংলাদেশে আনে। এরপর রেজাউল করিম ও রুহুল আমিনের তত্বাবধানে বাহকের মাধ্যমে ভারতে পাচারের উদ্দেশ্যে বেনাপোলে আনে। নাসির উদ্দিন, ওলি, ও রমজান সীমান্তে গরু ব্যবসার নামে খাটাল স্থপন করে। খাটালের আড়ালে বাংলাদেশ থেকে বাহকের মাধ্যমে ভারতের গৌতমের নিকট স্বর্ন পাচার করে। বিশেষ কৌশলে স্বর্ন পরিবহনকালে আসামিরা ১৩৫ পিচ সোনার বারসহ হাতেনাতে আটক হয়। সোনা চোরাচালানের মাধ্যমে অর্জিত অর্থের বিনিময়ে আসামিরা নামে বেনামে অঢেল সম্পদ অর্জন করে। মামলা তদন্তকালে জানা যায়, আসামিরা পরস্পর যোগসাজসে বেনাপোল স্থল বন্দর ও আশেপাশের বাগান পোর্টের মাধ্যমে বাংলাদেশ থেকে স্বর্ন ভারতে পাচার করে। ভারত থেকে সমপরিমান মূল্যের ডলার বৈদেশিক মুদ্রা) অবৈধ ভাবে বাংলাদেশে আনে। আসামিরা একদিকে স্বর্ন পাচার অন্যদিকে অবৈধ ডলার ব্যবসার সাথে জড়িত। তদন্তকালে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মানিলন্ডারিংয়ের আলামত পরিলক্ষিত হওয়ায় ঢাকা সিআইডর এডিশনাল ইন্সপেক্টর জেনারেল বরাবর একটি পত্র প্রেরণ করেন। অনুসন্ধানকালে প্রাপ্ত তথ্যাদি পর্যালোচনা ও বিভিন্ন মাধ্যম থেকে সংগৃহিত কাগজপত্র বিশ্লেষন, স্থানীয় ভাবে প্রকাশ্য ও গোপনে ব্যাপক অনুসন্ধানে প্রাথমিক ভাবে প্রতীয়মান হয় আসামিরা সোনা পাচারের বাহকদের নির্দেশ দাতা। অভিযুক্তরা পরস্পর যোগসাজসে ২০২০ সালের ১ জানুয়ারি থেকে চলতি বছরের ২০২৩ সালের ১ জানুয়ারি পর্যন্ত মোট ১৩ কোটি ৫২ লাখ ৬০ হাজার ৮শ টাকা মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন অনুযায়ি চোরাচালান ও সংঘবদ্ধ সম্পৃক্ত অপরাধের মাধ্যমে উর্পাজন ছদ্মাবৃত্ত করার লক্ষ্যে গবাদি পশুর ফার্ম ও জুয়েলারি ব্যবসার আড়ালে স্থানান্তর, হস্তান্তর ও রুপান্তর করা বা করার চেষ্টা মাধ্যমে মানিলন্ডারিং করেছে মর্মে প্রাথমিক ভাবে প্রতীয়মান হয়। যা মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন (সংশোধনী ২০১৫) এর ৪ (২) ধারায় নিয়মত মামলা রুজুর অনুমোদন প্রদান করে।
